রাজশাহী নগরের বোয়ালিয়া থানা এলাকায় একটি ফ্ল্যাটের ভেতরে ঢুকিয়ে এক তরুণকে বেঁধে নির্যাতন ও মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক নারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগী মির্জা মুজাহিদুল ইসলাম গাজী (২৮) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। তিনি বর্তমানে শহরের একটি ছাত্রাবাসে থেকে চাকরির প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
থানা সূত্রে জানা যায়, গতকাল শনিবার সকালে ব্যক্তিগত কাজে শহরে আসেন মুজাহিদুল। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বোয়ালিয়া মডেল থানার স্বচ্ছ টাওয়ারের পশ্চিম পাশে রাস্তা পার হওয়ার সময় এক ব্যক্তির সঙ্গে তার সংঘর্ষ হয়। ঘটনাস্থলে উপস্থিত তিনজন তাকে গালিগালাজ করেন। এরপর এক তরুণী এসে সমস্যা মীমাংসার প্রস্তাব দেন এবং তাকে স্বচ্ছ টাওয়ারের ১৫ তলায় নিয়ে যান। সেখানে একটি ফ্ল্যাটের ভেতরে ঢুকিয়ে দিলে তিন যুবক তার মুখ গামছা দিয়ে বেঁধে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে।
ওই ফ্ল্যাটের মালিক রাজশাহীর হোটেল নাইস ইন্টারন্যাশনালের স্বত্বাধিকারী খন্দকার হাসান কবির। গ্রেপ্তার আসামি মোহাম্মদ তৌকির জাহানের সঙ্গে তার আত্মীয়তার সম্পর্ক রয়েছে বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে। এই সূত্র ব্যবহার করে হোটেল ব্যবস্থাপকের কাছ থেকে চাবি নিয়ে ফ্ল্যাটটি খোলা হয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে হোটেল মালিক বিষয়টি অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি ওই ফ্ল্যাটে মাঝেমধ্যে থাকেন এবং ডুপ্লিকেট চাবি দিয়েই ঘটনাটি ঘটানো হয়েছে।
মারধরের একপর্যায়ে দুই শর্তে তাকে ছেড়ে দেওয়ার কথা বলে আসামিরা। এক শর্ত হলো — উপস্থিত তরুণীকে দিয়ে ‘কট’ দেখিয়ে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হবে; অন্যথায় এক লাখ টাকা দিতে হবে। টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় তাকে আবারও মারধর করা হয় এবং তরুণীকে পাশে বসিয়ে ভিডিও ধারণ করা হয়। পরে তার মুঠোফোন থেকে বড় বোনের নম্বরে কল করে টাকা পাঠাতে বলা হয়। বোনের স্বামী অপহরণকারী শাহরিয়ার মননের পূবালী ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে ৩০ হাজার টাকা পাঠান। এছাড়া তার কাছ থেকে থাকা ১০ হাজার টাকাও জোর করে নেওয়া হয়। মোট ৪০ হাজার টাকা ‘ব্যবসায়িক লেনদেন’ হিসেবে একটি ডায়েরিতে লিখে স্বাক্ষর নেওয়া হয় এবং হুমকি দিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
শনিবার রাতেই বোয়ালিয়া থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী। রবিবার ভোরে অভিযান চালিয়ে মোহাম্মদ তৌকির জাহান ওরফে স্মরণ (২৯), আবু রায়হান (২৪), শাহরিয়ার মনন (২৯) ও জুনাইরা ইসলাম (২২) নামের চারজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত আবু রায়হানের বাবা জাহাঙ্গীর আলম রাজপাড়া থানা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক। তিনি দাবি করেছেন, তার ছেলে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে এবং বন্ধুদের বিপদে পড়ে উদ্ধার করতে সেখানে গিয়েছিলেন।
বোয়ালিয়া থানার উপপরিদর্শক আমিনুল ইসলাম জানান, আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।




