আর্থিক অনিয়মের অভিযোগে নগদ লিমিটেডের (প্রাক্তন থার্ড ওয়েভ টেকনোলজিস) সাবেক প্রধান নির্বাহী তানভীর আহমেদ মিশুক এবং তার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন বিপুল পরিমাণ শেয়ার জব্দ করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা একটি আবেদনের ভিত্তিতে ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবির গত ১০ সেপ্টেম্বর এ আদেশ প্রদান করেন। বিষয়টি আজ রোববার জনসমক্ষে আসে।
আদালতের এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করে দুদকের আইনজীবী মীর আহমেদ আলী সালাম জানান, সংস্থার সহকারী পরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান মিরাজ গত ১০ সেপ্টেম্বর ওই আবেদন দাখিল করেন। আদালত আবেদনটি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে ওই দিনই আদেশ জারি করে।
দুদকের দাখিলকৃত আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, অবৈধ পথে সরকারি অর্থ বের করে নেওয়া, বৈধ চ্যানেল ব্যবহার না করে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার হস্তান্তর, জিরো কুপন বন্ডের অর্থ দিয়ে বৈদেশিক ঋণ পরিশোধ, বিদেশে অর্থ পাচার এবং জ্ঞাত আয়ের বাইরে সম্পদ অর্জনের মতো গুরুতর অভিযোগের তদন্ত চলছে তানভীর আহমেদ মিশুক ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।
অনুসন্ধানের প্রাথমিক ফলাফলে দেখা গেছে, ২০২১ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নগদের মাধ্যমে বিতরণ করা সরকারি ভাতার যে অর্থ ব্যয় হয়নি, তা সফটওয়্যারের মাধ্যমে জালিয়াতি করে ২৪ হাজার ১৫৯টি ভুয়া উদ্যোক্তার ওয়ালেটে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীকালে সেই অর্থ ৬৪৮টি ভুয়া ডিস্ট্রিবিউটর সাপোর্ট অফিসার এবং ৩৪টি অননুমোদিত ডিস্ট্রিবিউটরের ব্যাংক হিসাবের মধ্য দিয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়। এ প্রক্রিয়ায় প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৭০৬ কোটি ৩৮ লাখ ৫৪ হাজার ২২৯ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ মিলেছে বলে আবেদনে জানানো হয়েছে।
আত্মসাৎ করা সেই অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে লেয়ারিংয়ের মাধ্যমে থার্ড ওয়েভ টেকনোলজিস লিমিটেডের ১৬ কোটি ৮৪ লাখ ৩৪ হাজার ১২৭টি শেয়ার ক্রয় করা হয়েছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়। দুদক আশঙ্কা করছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা ওই শেয়ার বিক্রি বা হস্তান্তরের চেষ্টা চালাচ্ছেন এবং অর্থ বিদেশে পাচার হয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট বিদেশি প্রতিষ্ঠান বা নাগরিকরা শেয়ার কেনার জন্য বৈধভাবে বিদেশ থেকে অর্থ এনেছেন—এমন প্রমাণও অনুসন্ধানে পাওয়া যায়নি।
তদন্ত শেষ হওয়ার আগে শেয়ারগুলো হস্তান্তর বা বিক্রি হয়ে গেলে রাষ্ট্রের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে। সেই কারণে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ও দুদক বিধিমালা অনুযায়ী শেয়ারগুলো অবরুদ্ধ রাখা অপরিহার্য বলে মনে করেছে সংস্থাটি। আদালত এই যুক্তি গ্রহণ করে অবরুদ্ধের আদেশ দেন।




