২০২৬ সালের প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষার ইংরেজি পাঠ্যক্রমে (ইউনিট ৪—মাই হোম ডিস্ট্রিক্ট) বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় একটি গুরুত্বপূর্ণ জেলা কিশোরগঞ্জ নিয়ে বিশদ শিক্ষামূলক আলোচনা রাখা হয়েছে। টমলতোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফাতিহা তার দাদার সঙ্গে কথোপকথনের মাধ্যমে প্রথমে জেলার নামের উৎস সম্পর্কে জানতে চায়। উত্তরে দাদা জানান, ষষ্ঠ শতাব্দীতে ব্রহ্মপুত্র নদীর তীরে একজন জমিদার—যিনি ব্রজকিশোর প্রামাণিক কিংবা নন্দকিশোর প্রামাণিক নামে পরিচিত ছিলেন—একটি বাণিজ্যকেন্দ্র বা ‘গঞ্জ’ প্রতিষ্ঠা করেন। পরবর্তীকালে ‘কিশোর’ ও ‘গঞ্জ’ শব্দদ্বয়ের সংমিশ্রণে এই অঞ্চলের নাম কিশোরগঞ্জ হিসেবে প্রচলিত হয়।
ফাতিহা পরবর্তী সময়ে আরও তথ্য সংগ্রহ করে নিজের জেলাকে নিয়ে একটি ছোট নিবন্ধ প্রস্তুত করে। সেখানে উল্লেখ করা হয়, কিশোরগঞ্জ বাংলাদেশের বৃহত্তম জেলাগুলোর মধ্যে অন্যতম। উত্তর-পূর্ব বাংলাদেশের এই জেলার মোট আয়তন ২,৬৮৮ বর্গকিলোমিটার। প্রশাসনিক কাঠামোয় এখানে ৮টি পৌরসভা ও ১৩টি উপজেলা রয়েছে। জেলাটির ভেতর দিয়ে প্রবাহিত প্রধান নদীগুলোর মধ্যে রয়েছে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র, মেঘনা, কালনী, সুতী ও নরসুন্দা। কিশোরগঞ্জ পৌরসভার আয়তন প্রায় ১০ বর্গকিলোমিটার, আর নরসুন্দা নদী এই শহরের মধ্য দিয়েই বয়ে চলেছে।
এই অঞ্চলের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বাংলার লোকসাহিত্যের ধারাকে সমৃদ্ধ করেছে এই ভূমি। মৈমনসিংহ গীতিকার অধিকাংশ গীতই এই এলাকায় রচিত হয়েছিল বলে বিশ্বাস করা হয়। নদী, হাওর ও সবুজ শস্যখেতের প্রাকৃতিক দৃশ্যপট এখানকার বহু জনপ্রিয় লোককথা ও পালার পটভূমি হিসেবে কাজ করেছে। সাহিত্য ও শিল্পাঙ্গনে কিশোরগঞ্জের অবদান অনন্য। বাংলার প্রথম নারী কবি চন্দ্রাবতীর জন্মভূমি এই জেলা। শিশু সাহিত্যের দুই জনপ্রিয় স্রষ্টা—উপেন্দ্রকিশোর রায় চৌধুরী ও সুকুমার রায়—এখানকারই সন্তান। এছাড়া খ্যাতনামা চিত্রশিল্পী জয়নুল আবেদিনেরও জন্ম এই মাটিতে।
পাঠ্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত শব্দার্থ ও অনুশীলনী অংশে শিক্ষার্থীদের জন্য কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দের অর্থ দেওয়া হয়েছে। যেমন—টেম্পল মানে উপাসনালয়, লোকেটেড অর্থ নির্দিষ্ট স্থানে অবস্থিত, ফোর্ট হলো প্রতিরক্ষার জন্য নির্মিত শক্তিশালী ভবন, ইনফরমেশন মানে তথ্য বা বিবরণ এবং প্রাউড অর্থ গর্বিত বা সম্মানিত বোধ করা। মসজিদ, জেলা, ছাত্র, বিদ্যালয়, দাদা, নাম, নদী এবং গঞ্জ—এই শব্দগুলোর ব্যাখ্যাও পাঠে অন্তর্ভুক্ত। এভাবে নিজের এলাকার নামকরণ, ভৌগোলিক অবস্থান, নদ-নদীর বিবরণ ও সাংস্কৃতিক উত্তরাধিকার সম্পর্কে জানার সুযোগ পাচ্ছে তরুণ শিক্ষার্থীরা।




