দশ বছর বয়সী হাফসা আক্তার সিনহা বর্তমানে চতুর্থ শ্রেণিতে অধ্যয়নরত। ছোট্ট বয়সেই তার মনে গড়ে উঠেছে এক মহৎ স্বপ্ন—ভবিষ্যতে একজন আদর্শ চিকিৎসক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা। চঞ্চল ও মেধাবী এই শিক্ষার্থীর চোখে ভেসে উঠছে মানুষের সেবার সেই উজ্জ্বল ছবি।
সিনহার পারিবারিক পরিবেশই তার স্বপ্নের মূল ভিত্তি। তার বাবা পেশায় চিকিৎসক এবং মা একজন শিক্ষিকা। প্রতিদিনের ঘরোয়া পরিবেশে সে প্রত্যক্ষ করছে কীভাবে তার বাবা অসুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে তাদের সেবা দেন, আর মা শিক্ষার্থীদের মাঝে জ্ঞানের আলো ছড়িয়ে দেন। বিশেষ করে বাবার সাদা অ্যাপ্রন ও স্টেথোস্কোপ পরিধান করে রোগীদের যত্ন নেওয়ার দৃশ্যটি তাকে গভীরভাবে মুগ্ধ করেছে। সে নিজেও সেই পথ অনুসরণ করে ভবিষ্যতে মানুষের মুখে হাসি ফোটাতে চায়।
বিদ্যালয়ে পড়াশোনায় অত্যন্ত মনোযোগী সিনহার বিশেষ আগ্রহ বিজ্ঞান ও পরিবেশ বিষয়ে। শিক্ষকদের মতে, সে অত্যন্ত বিনয়ী, কৌতূহলী ও আন্তরিক এক ছাত্রী। শিক্ষিকা মায়ের যথার্থ দিকনির্দেশনা এবং চিকিৎসক বাবার ধারাবাহিক অনুপ্রেরণায় সে প্রতিনিয়ত নিজের লক্ষ্যের দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
সিনহার মা জানান, তারা কখনোই মেয়ের ওপর কোনো কিছু জোর করে চাপিয়ে দেননি। তবে মেয়েটি নিজ থেকেই বাবার পেশা ও মানবসেবাকে অত্যন্ত পছন্দ করে। তিনি আরও বলেন, "আমরা চাই সে একজন সুনাগরিক হয়ে দেশের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করুক।" তার বাবাও মেয়ের এমন উদ্যোগে অত্যন্ত গর্বিত। তিনি জানান, সিনহার এই আগ্রহ দেখে তিনি খুব আনন্দ পান। যদি ভবিষ্যতে সে চিকিৎসক হয়ে অসহায় ও অসুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারে, তবেই অভিভাবক হিসেবে তাদের সার্থকতা পূর্ণ হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।




