তাইওয়ানের স্টক এক্সচেঞ্জ কর্পোরেশনের চেয়ারম্যান শেরম্যান লিন সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে দ্বীপটির পুঁজিবাজারের বর্তমান অবস্থান এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তার মতে, তাইওয়ানকে বুঝতে হলে একে একটি 'প্রযুক্তি দ্বীপ' হিসেবে দেখা প্রয়োজন। তিনি জানান, দ্বীপটির পশ্চিম উপকূলের শহরগুলো যেন একটি বিশাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কের মতো এবং প্রযুক্তির প্রভাব তাদের ডিএনএ-তে মিশে আছে। ব্লুমবার্গের হিসাব অনুযায়ী, মোট মূল্যের দিক থেকে গত মে মাসে তাইওয়ান বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম স্টক মার্কেটে পরিণত হয়েছে, যেখানে তারা কেবল যুক্তরাষ্ট্র, মূল চীন, জাপান এবং হংকং-এর পেছনে অবস্থান করছে।
তবে তাইওয়ানের এই সাফল্যের মূলে রয়েছে বিশ্বের বৃহত্তম চিপ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টিএসএমসি (TSMC)। দ্বীপটির বেঞ্চমার্ক স্টক ইনডেক্স 'তাইয়েক্স' (TAIEX)-এর প্রায় ৪০ শতাংশই এই একটি কোম্পানির দখলে। চলতি বছরে তাইয়েক্স ইনডেক্স যেমন ৫৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, তেমনি টিএসএমসি-র প্রবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ৫০ শতাংশে। শুধুমাত্র একটি কোম্পানির ওপর এই প্রবল নির্ভরশীলতা কমিয়ে বিনিয়োগকারীদের আকর্ষণ বাড়াতে কাজ করছেন লিন এবং তার সহকর্মীরা। তারা এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) সাপ্লাই চেইনের অন্যান্য কোম্পানি এবং এমন কিছু লাভজনক প্রতিষ্ঠানের দিকে নজর দিতে চাইছেন যেগুলোকে বিনিয়োগকারীরা প্রায়শই উপেক্ষা করেন, যাদের তিনি 'হিডেন চ্যাম্পিয়ন' বলে অভিহিত করেছেন।
জাপান এবং দক্ষিণ কোরিয়ার পথ অনুসরণ করে তাইওয়ানের স্টক এক্সচেঞ্জ তাদের 'পাওয়ার আপ' প্রোগ্রামের মাধ্যমে কোম্পানিগুলোর কর্পোরেট গভর্ন্যান্স বা প্রাতিষ্ঠানিক শাসন ব্যবস্থা শক্তিশালী করার চেষ্টা করছে। উল্লেখ্য, শেয়ারহোল্ডারদের গুরুত্ব বাড়ানো, স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ এবং শেয়ার বাইব্যাক উৎসাহিত করার ফলে জাপানি পুঁজিবাজার রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছিল। তাইওয়ানও সেই একই পথে হাঁটতে আগ্রহী। যদিও গত বছর ৭০টি আইপিও-র মাধ্যমে ৩.৩ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করে তারা দ্বীপটির ইতিহাসে রেকর্ড গড়েছে, তবে হংকং-এর ৩৭.৪ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় এই পরিমাণ অত্যন্ত নগণ্য।
বাজারের কিছু সীমাবদ্ধতা নিয়েও কথা বলেছেন লিন। যেমন, তাইওয়ানের বাজারে লেনদেন দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে বন্ধ হয়ে যায়। এই লেনদেনের সময়সীমা বাড়ানোর প্রস্তাব দিলেও নিয়ন্ত্রক সংস্থা এটিকে বর্তমানের অগ্রাধিকার হিসেবে গ্রহণ করেনি। তবে লিন বিশ্বাস করেন, এআই-এর উত্থান তাইওয়ানের জন্য এক বিশাল সুযোগ। তার মতে, কেবল টিএসএমসি-র মতো এক বা দুটি বিশ্বমানের কোম্পানি থাকা তাদের শক্তি নয়, বরং বিশ্বের সবচেয়ে পূর্ণাঙ্গ এবং প্রতিযোগিতামূলক এআই ইকোসিস্টেম থাকাটাই তাইওয়ানের প্রকৃত বিশেষত্ব। এই সুযোগটি আগামী তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে তিনি মনে করেন।




