এটিএন্ডটির প্রধান অর্থকর্মী (সিএফও) প্যাসকেল দেসরোচেস আগামী ৩১ ডিসেম্বর অবসরে যাচ্ছেন। প্রায় পাঁচ বছর সিএফও হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর তিনি এ পদ ছাড়ছেন। তার পুরো পেশাজীবন প্রায় চার দশকের। এর আগে তিনি নিজের কর্মজীবনকে কয়েকটি অধ্যায়ে ভাগ করে দেখেছেন—প্রতিটি অধ্যায়ই ছিল পরিবর্তন, চ্যালেঞ্জ এবং গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে নেভিগেট করার সুযোগ। এই দর্শনই তাকে এতদিন পরিচালিত করেছে বলে তিনি জানান।

তাঁর উত্তরসূরি হিসেবে ইতিমধ্যে দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন জেনিফার বির্য়। তিনি এটিএন্ডটির দীর্ঘদিনের অর্থ বিভাগের নির্বাহী ছিলেন এবং সম্প্রতি ম্যাকআফির সিএফও ও সিওও হিসেবে কাজ করেছেন। চলতি বছরের জুলাইয়ে তাকে ডেপুটি সিএফও নিযুক্ত করা হয় এবং আগামী ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে সিএফও পদে বসবেন। এ বছর ফরচুন ৫০০ কোম্পানিগুলোতে সিএফও পরিবর্তনের একটি বড় ঢেউ দেখা যাচ্ছে, তার মধ্যে এটিএন্ডটিও রয়েছে।

দেসরোচেস ২০২১ সালে সিএফও পদে যোগ দেন, যা এটিএন্ডটির ইতিহাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সময় ছিল। তার নেতৃত্বেই কোম্পানিটি ডিরেক্টিভি থেকে আলাদা হয়, ওয়ার্নারমিডিয়া বিক্রি করে দেয়, ডিভিডেন্ড কমানো হয় এবং ৫জি ও ফাইবার নেটওয়ার্কে মনোযোগ দেয়। এই সিদ্ধান্তগুলো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘সত্যিকারের কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় কখনো নিশ্চিত হওয়া যায় না যে সেগুলো সঠিক হবে।’ তবে তিনি গতি বজায় রাখার ওপর জোর দিয়েছেন। ফেডারেল রিজার্ভ ২০২২ সালে সুদের হার বাড়ানোর আগেই তারা ডিরেক্টিভি এবং টাইম ওয়ার্নারের সম্পদ বিক্রি করে দেয়, ফলে দরপতনের ঝুঁকি এড়ানো যায়। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি তাড়াতাড়ি না করতাম, তাহলে আয় কম হতো এবং ব্যবসায় বিনিয়োগের পরিমাণও কমে যেত। এটাই আমার সবচেয়ে গর্বের বিষয়—আমরা দ্বিধা করিনি।’

কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার পাশাপাশি তিনি যোগাযোগের ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন। এটিএন্ডটির সিইও জন স্ট্যানকির প্রশংসা করে বলেন, তিনি কোম্পানির সাফল্য এবং উন্নতির প্রয়োজনীয়তা—দুই দিকই স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন। স্ট্যানকি সম্প্রতি লিংকডইন পোস্টে দেসরোচেসকে ‘ব্যতিক্রমী সহযোগী ও নীতিনিষ্ঠ নেতা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।

দেসরোচেসের জন্ম হাইতিতে, পাঁচ বছর বয়সে পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হন এবং নিউ ইয়র্কের কুইন্সে বেড়ে ওঠেন। সেখানে শিক্ষাকে কখনো আপসহীনভাবে গুরুত্ব দেওয়া হতো। তিনি সেন্ট জন ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতক এবং কলাম্বিয়া বিজনেস স্কুল থেকে এমবিএ সম্পন্ন করেন। তিনি বলেন, ‘আমার শুরুর অবস্থান থেকে এমন ক্যারিয়ার কল্পনাও করা কঠিন ছিল। এই ধরনের পদে আমার মতো মানুষ খুব কম ছিল।’ তিনি আশা করেন, তার পথ দেখে অনেকে অনুপ্রাণিত হবে।

তার পেশাজীবন শুরু হয় কেপিএমজিতে, যেখানে নিউ ইয়র্ক অফিসের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ অংশীদার লেমার সুইনি তার পরামর্শদাতা ও পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। পরে তিনি টাইম ওয়ার্নারে যোগ দেন এবং ওয়ার্নারমিডিয়ার ইভিপি ও সিএফও, টার্নার ব্রডকাস্টিংয়ের সিএফও এবং টাইম ওয়ার্নারের গ্লোবাল কন্ট্রোলারসহ বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেন। টাইম ওয়ার্নারের প্রয়াত সিইও ডিক পার্সনসও তার পরামর্শদাতা ছিলেন। পার্সনসের কাছ থেকে তিনি ‘অস্পষ্টতা নিয়ে কাজ করতে স্বাচ্ছন্দ্য’ এবং ‘খারাপ খবরের জন্য দরজা খোলা রাখা’ শিখেছেন।

এটিএন্ডটি (ফরচুন ৫০০-এ ৩৫তম) তার কার্যকালে ওয়্যারলেস ও ওয়্যারলাইন নেটওয়ার্কে (স্পেকট্রামসহ) ১৫০ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিনিয়োগ করেছে। এই বিনিয়োগের পাশাপাশি ঋণ কমানোর কৌশল বজায় রাখা ছিল চ্যালেঞ্জিং। তিনি বলেন, ‘বাঁচিয়ে আপনি সমৃদ্ধি পেতে পারেন না।’ ডিভিডেন্ড কমানো ছিল আরও কঠিন সিদ্ধান্ত। ২০২০ সালে বার্ষিক ডিভিডেন্ড ১৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি থেকে কমে প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়ায়, যা পুনর্বিনিয়োগ ও ঋণ পরিশোধে সহায়তা করে। গত বছর এটিএন্ডটি ১৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি ফ্রি ক্যাশ ফ্লো তৈরি করে এবং ব্যবসায় ২২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করে। বিনিয়োগকারীরা এই কৌশলে সন্তুষ্ট—শেয়ারের রিটার্ন পাঁচ বছরে প্রায় ৬৫ শতাংশ এবং গত তিন বছরে প্রায় ৯৫ শতাংশ (ডিভিডেন্ডসহ), যা এসঅ্যান্ডপি ৫০০-কে ছাড়িয়ে গেছে। দেসরোচেস বলেন, ‘পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনার নমনীয়তা থাকতে হবে, তবে মাঝপথে প্রকল্প পরিত্যাগ করা যাবে না।’

অবসরের পরও তিনি পুরোপুরি কর্পোরেট জীবন ছাড়ছেন না। তিনি হানিওয়েল অ্যারোস্পেসের বোর্ড সদস্য এবং অডিট কমিটির চেয়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। ভবিষ্যতে আরও এক বা দুটি বোর্ডে যোগ দেওয়ার বা উপদেষ্টার কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে তার। তরুণ অর্থ পেশাজীবীদের প্রতি তার পরামর্শ—ক্যারিয়ারকে ‘ম্যারাথন হিসেবে দেখুন, স্প্রিন্ট নয়’। পর্যাপ্ত ঘুম, ব্যায়াম, ভালো খাবার, প্রিয়জনদের সঙ্গে সময় কাটানো এবং আনন্দ খুঁজে নেওয়ার ওপর তিনি জোর দেন। তিনি বলেন, ‘যে কাজে আনন্দ নেই, তা থেকে আপনি সেরা হয়ে উঠতে পারবেন না।’