প্যারামাউন্টের প্রধান নির্বাহী ডেভিড এলিসনের কাছে ওয়ার্নার ব্রস. ডিসকভারি (ডব্লিউবিডি) অধিগ্রহণের চুক্তিটি চূড়ান্ত করার শেষ ধাপে এসে নতুন এক আইনি জট তৈরি হয়েছে। একদল রাজ্যের অ্যাটর্নি জেনারেল প্রতিযোগিতাবিরোধী উদ্বেগের কথা তুলে এই চুক্তির বিরুদ্ধে আইনি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন, যা এখন এলিসনের জন্য প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রাজ্যগুলোর এই আইনি আপত্তির কারণে চুক্তিটি অনুমোদনের পথে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যদিও অধিগ্রহণ প্রক্রিয়াটি দীর্ঘদিন ধরে আলোচনার পর চূড়ান্ত পর্যায়ে এসেছিল, এই নতুন চ্যালেঞ্জের ফলে ডিলটি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ফলে, কীভাবে এই আইনি প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করা যায়, সেই কৌশল নিয়ে এখন সরব হয়েছেন এলিসন।

অ্যাটর্নি জেনারেলদের দাবি, এই অধিগ্রহণ বাজার প্রতিযোগিতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে, বিশেষ করে বিনোদন ও মিডিয়া খাতে। এর ফলে ভোক্তাদের জন্য খরচ বাড়তে পারে এবং উদ্ভাবন সীমিত হয়ে যেতে পারে বলে তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। এলিসনের পক্ষ থেকে অবশ্য এখনো পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি, তবে তিনি যে এই বাধা কাটিয়ে চুক্তিটি সম্পন্ন করার পথ খুঁজছেন, তা নিশ্চিত।

বিশ্লেষকদের মতে, এলিসনকে এখন আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি আর্থিক ও নিয়ন্ত্রক বিষয়গুলোও মোকাবিলা করতে হবে। কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, রাজ্যগুলোর এই আপত্তি ডিলটি বাতিলের কারণ হতে পারে, অন্যদিকে কেউ কেউ বলছেন, এটি নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সাথে সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তি হতে পারে। তবে আপাতত এলিসনের জন্য সামনে যা রয়েছে তা হলো এক কঠিন আইনি প্রক্রিয়া, যার ফলাফলই নির্ধারণ করবে এই বিশাল মিডিয়া চুক্তিটির ভবিষ্যৎ।

এদিকে, এই খবরে ডব্লিউবিডি এবং প্যারামাউন্টের শেয়ারের দামে সামান্য ওঠানামা দেখা গেছে। বিনিয়োগকারীরা এই আইনি জটিলতার পরিপ্রেক্ষিতে চুক্তিটি নিয়ে নতুন করে হিসাব-নিকাশ শুরু করেছেন। এই পরিস্থিতিতে, দুই প্রতিষ্ঠানের একীভূত হয়ে নতুন একটি মিডিয়া জায়ান্ট তৈরির সম্ভাবনা এখন আইনি প্রক্রিয়ার সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।