এক সময় যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব সাদার্ন ক্যালিফোর্নিয়ায় পিএইচডি গবেষণায় যুক্ত ছিলেন নাদির নিবরাস। তবে একাডেমিক পড়াশোনার চেয়ে পৃথিবী দেখার প্রবল আগ্রহ তাঁকে টেনে নিয়ে যায় ভিন্ন পথে। পড়াশোনা ছেড়ে ভ্রমণের ভিডিও তৈরি শুরু করেন তিনি এবং ‘নাদির অন দ্য গো’ চ্যানেলের মাধ্যমে দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন। সম্প্রতি মার্কিন চলচ্চিত্র নির্মাতা ও ইউটিউবার ড্রু বিনস্কির সাথে যৌথভাবে তাঁর নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র জনপ্রিয় স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সে জায়গা করে নিয়েছে।

বর্তমানে সার্বিয়ার রাজধানী বেলগ্রেডে অবস্থানরত নাদির জানান, সম্প্রতি মঙ্গোলিয়া থেকে সেখানে এসেছেন এবং খুব শীঘ্রই মিসরের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন। তিনি বলেন, আগে quantity বা সংখ্যার দিকে নজর দিয়ে অনেক ভিডিও বানাতেন, তবে এখন quality-র দিকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। বর্তমানে তিনি দীর্ঘ সময়ের ডকুমেন্টারি তৈরির দিকে মনোযোগ দিচ্ছেন, যার উদাহরণ হিসেবে কম্বোডিয়ার গৃহযুদ্ধ এবং তুর্কমেনিস্তানের ভিডিওর কথা উল্লেখ করেন। এই কাজগুলো আন্তর্জাতিক দর্শকদের মাঝে বেশ প্রশংসিত হয়েছে।

এ পর্যন্ত প্রায় ৮০টি দেশ ঘুরেছেন নাদির। তাঁর প্রথম ভাইরাল ভিডিওটি ছিল বাংলাদেশি পাসপোর্ট নিয়ে বিদেশ ভ্রমণের অভিজ্ঞতা নিয়ে। এরপর হাওয়াইয়ের সার্ফিং ভ্লগ এবং কুয়েতের প্রচণ্ড গরমের ভিডিওগুলো ব্যাপক সাড়া ফেলে। ভ্রমণের প্রস্তুতির কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, যেকোনো গন্তব্যে যাওয়ার আগে বইপত্র পড়ে বিস্তারিত স্ক্রিপ্ট তৈরি করেন, তবে বাস্তব অভিজ্ঞতা অনেক সময় বইয়ের তথ্যের চেয়েও সমৃদ্ধ হয়। আগে সব কাজ একাই করলেও এখন তাঁর একটি দক্ষ টিম রয়েছে। পরিকল্পনার পর ফিল্মিংয়ের জন্য লোক নিয়োগ দেন এবং সম্পাদনার কাজে বাংলাদেশের তিনজন ফুল-টাইম কর্মীসহ আরও অনেকে তাঁকে সহায়তা করেন।

নেটফ্লিক্সের ভিডিওর প্রসঙ্গে তিনি জানান, ড্রু বিনস্কির সাথে তাঁর যোগাযোগ হয় ইনস্টাগ্রামের মাধ্যমে। ঢাকার যানজট নিয়ে করা সেই ভিডিওটির পরিকল্পনা ও স্ক্রিপ্ট তাঁরা যৌথভাবে করেছিলেন, যদিও শুটিং ও এডিটিং ছিল ড্রুর। জনপ্রিয়তার কারণে এখন ঢাকায় বের হলে তাঁকে মাস্ক বা ছদ্মবেশ ব্যবহার করতে হয়।

বিদেশে ভ্রমণের চ্যালেঞ্জ হিসেবে নাদির ভিসার জটিলতার কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, বছরের অর্ধেক সময় বিভিন্ন দূতাবাসের সাথে যোগাযোগ এবং ভিসার জন্য অপেক্ষা করে কাটে। বাংলাদেশি পাসপোর্টের কারণে অনেক দেশে ইমিগ্রেশনে বাড়তি জিজ্ঞাসাবাদ এবং ব্যাকগ্রাউন্ড চেকের মুখোমুখি হতে হয়। নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে তিনি মেক্সিকোর উত্তরাঞ্চল বা আফ্রিকার মতো ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় দামী ক্যামেরা ব্যবহার করেন না এবং স্থানীয় সিকিউরিটি বা নিরাপদ হোটেল বেছে নেন।

ভ্রমণের এক অবাক করা অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করে তিনি জানান, পূর্ব আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র সেশেলসে ড্রোন ক্র্যাশ করার পর ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে একজন বাংলাদেশির খোঁজ পান। জানলে অবাক হবেন, মাত্র এক লাখ জনসংখ্যার ওই দেশে প্রায় পাঁচ হাজার বাংলাদেশি বসবাস করেন।

একাডেমিক পড়াশোনায় ফেরার বিষয়ে নাদির স্পষ্ট করে বলেন, তিনি এখনকার কাজেই পরিপূর্ণতা খুঁজে পেয়েছেন এবং আর পিএইচডিতে ফিরতে চান না। তাঁর পছন্দের দেশের তালিকায় রয়েছে ব্রাজিল, মেক্সিকো, তুরস্ক, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, গুয়াতেমালা, ইতালি, সার্বিয়া, চীন এবং শ্রীলঙ্কা। ২০৩০ সালের মধ্যে তিনি তাঁর প্রযোজনা দলটিকে আরও বড় করতে এবং উচ্চ বাজেটের প্রামাণ্যচিত্র নির্মাণের লক্ষ্য স্থির করেছেন।