দেশের শিক্ষিত যুবসমাজের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণ কর্মসূচির অষ্টম ব্যাচের লিখিত বাছাই পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। আজ শনিবার সকাল ৯টায় দেশের ৬৪টি জেলার সবকটি কেন্দ্রে একযোগে এই পরীক্ষা শুরু হয়। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে পরিচালিত এই প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষিত কর্মপ্রত্যাশীদের স্বাবলম্বী করে তোলা। এই পুরো প্রশিক্ষণ কার্যক্রমটি বাস্তবায়ন করছে ই–লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেড।

অষ্টম ব্যাচের জন্য মোট ৪ হাজার ৮০০টি আসন বরাদ্দ ছিল, যার বিপরীতে আবেদন করেছিলেন ৮১ হাজার ৪০০ জন। তবে আবেদনপত্র যাচাই-বাছাইয়ের পর ৫২ হাজার ২০০ জনের আবেদন বৈধ বলে গণ্য হয় এবং এই প্রার্থীরাই লিখিত পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। রাজধানীর কল্যাণপুরে অবস্থিত ই–লার্নিং অ্যান্ড আর্নিং লিমিটেডের প্রধান কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত পরীক্ষায় অংশ নেন ৫ হাজার ৫০০ জন প্রার্থী। পরীক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং কার্যক্রম তদারকি করতে কল্যাণপুরের কেন্দ্রটি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুব–উল–আলম এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মোতাহার হোসেন। এছাড়া দেশের অন্যান্য জেলাগুলোতেও যথাযথ তদারকি করেছেন সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্মকর্তারা।

আগামী ২০ সেপ্টেম্বর লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের জন্য মৌখিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এই চূড়ান্ত বাছাই প্রক্রিয়ার পর প্রতিটি জেলা থেকে ৭৫ জন করে মোট ৪ হাজার ৮০০ জন প্রশিক্ষণার্থীকে নির্বাচিত করা হবে, যারা অষ্টম ব্যাচের প্রশিক্ষণ শুরু করবেন।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, এই প্রকল্পের মাধ্যমে এ পর্যন্ত মোট ১৯ হাজার ২০০ জন প্রশিক্ষণ শেষ করেছেন। এর মধ্যে প্রায় ৬৪ শতাংশ বা ১২ হাজার ৩৫৪ জন প্রশিক্ষণার্থী সফলভাবে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ফ্রিল্যান্সিং মার্কেটপ্লেসে কাজ শুরু করেছেন। এই সফল প্রশিক্ষণার্থীদের মোট আয়ের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩৪ লাখ ৩৯ হাজার ৮০ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৪২ কোটি ৩০ লাখ টাকার সমান।