প্রাথমিক শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধি শিক্ষার মানের মূল চাবিকাঠি নয় বলে মনে করেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। শনিবার ঢাকার লেকশোর হোটেলে আয়োজিত এক নাগরিক সংলাপে তিনি এই মত ব্যক্ত করেন। ‘এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফর্ম, বাংলাদেশ’-এর উদ্যোগে ‘সরকার কতখানি এগোলো? প্রাথমিক শিক্ষার ওপর আলোকপাত’ শীর্ষক ওই আলোচনায় তিনি অংশগ্রহণ করেন।

প্রতিমন্ত্রী তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, গত সাত মাসের অভিজ্ঞতায় এবং পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় তিনি দেখেছেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তুলনায় অনেক বেসরকারি স্কুলে শিক্ষকদের বেতন অর্ধেক বা এক-তৃতীয়াংশ হওয়া সত্ত্বেও সেখানে শিক্ষার মান অধিকতর উন্নত। তার মতে, ওইসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা শিখনের লক্ষ্যগুলো আরও কার্যকরভাবে অর্জন করতে পারছে, যা প্রমাণ করে যে বেতনই একমাত্র সমস্যা নয়। তবে বেতন সংক্রান্ত বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা মহাপরিচালকের দায়িত্ব বলে তিনি জানান।

বর্তমানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা স্নাতক শেষ করে ১৩তম গ্রেডে নিয়োগ পান। নতুন বেতন কাঠামো অনুযায়ী তাদের মূল বেতন ২৪ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগে ছিল ১১ হাজার টাকা। আগে ভাতাসহ মোট বেতন ২০ হাজার টাকার নিচে থাকত, ফলে প্রত্যন্ত অঞ্চলের শিক্ষকদের যাতায়াত খরচ এবং শহরের শিক্ষকদের বাসা ভাড়া মেটাতে গিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়তে হতো। এছাড়া নিয়োগ পরবর্তী পদোন্নতির ক্ষেত্রে বিদ্যমান জটিলতা ও সীমাবদ্ধতা নিয়েও সংলাপে আলোচনা হয়।

এই প্রসঙ্গে ববি হাজ্জাজ জানান, শিক্ষকদের নিয়োগ প্রক্রিয়া, ক্যারিয়ারের উন্নতি বা পদোন্নতি, মূল্যায়ন পদ্ধতি এবং প্রশিক্ষণের বিষয়গুলোকে বর্তমান বাস্তবতার আলোকে নতুনভাবে সাজানোর কাজ করছে সরকার। এই পরিকল্পনা চূড়ান্ত হলে তা সবার সামনে প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি তিনি জানান, কওমি মাদ্রাসা এবং ইংরেজি মাধ্যম স্কুলসহ প্রাথমিক স্তরের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে সরকারি মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হবে।

সংলাপে সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক নাজনীন আহমেদ শিক্ষার অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, কেবল বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের সংখ্যা বাড়িয়ে লাভ নেই যদি সেই শিক্ষা তাদের কর্মজীবনে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে না পারে। বৈশ্বিক জেন্ডার সমতা সূচকে বাংলাদেশ শিক্ষায় উন্নতি করলেও নারীদের অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নে এখনো পিছিয়ে আছে বলে তিনি আক্ষেপ করেন।