ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলায় শনিবার রাতে এক চা বিক্রেতাকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। নিহতের নাম রবিউল ইসলাম শেখ (৫৫), তিনি বড়ভাগ গ্রামের বাসিন্দা এবং পাশের গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী সদর বাজারে চায়ের দোকান পরিচালনা করতেন। মাত্র আড়াই মাস আগে তাঁর ভাতিজা কলেজছাত্র সুমন শেখ (২৪) একইভাবে কুপিয়ে খুন হয়েছিলেন।

ঘটনাটি ঘটেছে রাত ১০টার দিকে কাশিয়ানী-আলফাডাঙ্গা সড়কের মালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই রাতে দোকান বন্ধ করে রবিউল একই এলাকার মোক্তার বিশ্বাস (৫৫), হৃদয় শেখ (২১) ও লিটন খানের (৪০) সঙ্গে বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। পথে বিদ্যালয়ের কাছাকাছি পৌঁছালে একদল দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রবিউল ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ সময় তাঁর সঙ্গে থাকা তিনজনও আহত হন। স্থানীয় লোকজন আহতদের উদ্ধার করে কাশিয়ানী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।

খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের লাশ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ফরিদপুরের সহকারী পুলিশ সুপার (মধুখালী সার্কেল) মাসুদুজ্জামান জানান, ঘটনার কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে। কেন এই হামলা হলো, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, আলফাডাঙ্গার বড়ভাগ গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে আধিপত্য নিয়ে হুসাইন শেখের সঙ্গে সুমন শেখের পরিবারের বিরোধ চলছিল। এর আগেও একাধিকবার তাঁদের মধ্যে ঝগড়া ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে। এরই জেরে গত ২৭ জুন কাশিয়ানী থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে সুমনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। এবার তাঁর চাচা রবিউলও একই পরিণতির শিকার হলেন। দুই মামলার মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।