ভারতের পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝে শেষ পর্যন্ত স্বস্তি পেলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির। মুর্শিদাবাদের রেজিনগর আসনের প্রার্থী রবিউল আলম চৌধুরী শুরুতে তার মনোনয়ন প্রত্যাহারের ঘোষণা দিলেও পরবর্তীতে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন। শনিবার দুপুরে তিনি নিশ্চিত করেন যে, তিনি নির্বাচনি লড়াই চালিয়ে যাবেন।
শনিবার সকালে রবিউল আলম চৌধুরী জানান, রাজ্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে দলীয় কর্মীদের ব্যাপক হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে, যার ফলে অনেকেই এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন। এছাড়া দলের নিবন্ধিত প্রতীকের অভাব এবং প্রশাসনিক চাপের কারণে কর্মীদের মাঠে নামানো সম্ভব হচ্ছে না বলে তিনি প্রথমে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের কথা জানান। তবে বেলা ৩টার সময়সীমা শেষ হওয়ার আগেই তিনি পুনরায় লড়াইয়ে থাকার সিদ্ধান্ত নেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, রবিউলের প্রত্যাহারের কথা জানার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজে তাকে ফোন করে দীর্ঘক্ষণ কথা বলেন এবং লড়াই থেকে সরে না যাওয়ার অনুরোধ জানান। মমতার অনুরোধেই শেষ পর্যন্ত তিনি নির্বাচনে থাকার সিদ্ধান্ত নেন।
তবে এই উপনির্বাচন মমতার জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। নন্দীগ্রাম আসনে তার শিবিরের প্রার্থী সঞ্চিতা প্রধান দে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সাক্ষাতের পর হঠাৎই মনোনয়ন প্রত্যাহার করে নেন। এর বিপরীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কংগ্রেস প্রার্থী মিলন প্রধানকে সমর্থন দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। কিন্তু শুক্রবার সন্ধ্যায় একটি পুরনো হত্যা মামলায় মিলন প্রধান গ্রেপ্তার হওয়ায় সেই কৌশলটিও ব্যর্থ হয়।
এর পাশাপাশি বড় ধরনের আইনি জটিলতার মুখে পড়েছেন মমতা। তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ বিভক্তির কারণে নির্বাচন কমিশন সাময়িকভাবে মূল দলীয় নাম এবং 'জোড়া ফুল' প্রতীক স্থগিত করে দিয়েছে। ফলে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীকে নতুন নাম 'মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস' এবং প্রতীক হিসেবে 'ফুটবল খেলোয়াড়' দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের গোষ্ঠীর নাম রাখা হয়েছে 'ডেমোক্রেটিক তৃণমূল কংগ্রেস' এবং তাদের প্রতীক দেওয়া হয়েছে 'খাম'। নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী ৬ অক্টোবর রেজিনগর ও নন্দীগ্রাম—এই দুই আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।




