পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের কোহাট পুলিশ লাইনে এক ভয়াবহ আত্মঘাতী হামলায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৩১ জনে দাঁড়িয়েছে। রয়টার্সের বরাতে এক আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা শনিবার এক পুলিশ কর্মকর্তার সূত্র ধরে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। শুক্রবারের এই ভয়াবহ ঘটনার সময় পুলিশ সদস্য এবং তাদের পরিবার কমপ্লেক্সের ভেতরে অবস্থিত একটি মসজিদে জুমার নামাজ আদায় করছিলেন। ঠিক সেই মুহূর্তেই হামলাকারী বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি নিয়ে ফাঁড়ির ভেতরে প্রবেশ করে বিস্ফোরণ ঘটায়। ঘটনার পরপরই ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত সেখানে পৌঁছে আহত ও নিহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে স্থানান্তর করে।

খাইবার পাখতুনখোয়ার পুলিশের আইজিপি জুলফিকার হামিদ স্থানীয় গণমাধ্যম ‘ডন’-কে জানান, প্রথমে একটি বিস্ফোরকবোঝাই গাড়ি গেটে ধাক্কা দেয়। এরপর সন্ত্রাসীদের একটি দল যখন সন্ত্রাস দমন বিভাগের (সিটিডি) ভবনের দিকে অগ্রসর হয়, তখন পুলিশ তাদের খতম করে। তবে বাকি তিনজন বিশেষ শাখার ভবনের দিকে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়। আইজিপি হামিদের প্রাথমিক তথ্যে বলা হয়েছিল, মসজিদের কাছে গাড়ি ধাক্কায় বিস্ফোরণ ঘটেছে। তবে পরবর্তী বিবৃতিতে তিনি পরিষ্কার করেন যে, বিশেষ শাখা ভবনের নিকট একজন আত্মঘাতী হামলাকারী নিজের শরীরে থাকা বিস্ফোরক বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন।

এই ঘটনার পর সেখানে উপস্থিত ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’ নামক সন্ত্রাসীদের সঙ্গে পুলিশের তুমুল গোলাগুলি শুরু হয়। শনিবার পুলিশ জানিয়েছে, রাতভর অভিযান চালিয়ে মোট আটজন সন্ত্রাসীকে হত্যা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, পাকিস্তান সরকার নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তানের (টিটিপি) সদস্যদের দাপ্তরিকভাবে ‘ফিতনা আল-খাওয়ারিজ’ বলে অভিহিত করে। আইজিপি জুলফিকার হামিদ দৃঢ়তা প্রকাশ করে বলেছেন, পুলিশের মনোবল এখনো অটুট এবং এই সন্ত্রাসীদের পুরোপুরি নির্মূল না করা পর্যন্ত অভিযান অব্যাহত থাকবে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত এলাকায় সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং সন্ত্রাসীদের তৎপরতা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে দেশটির পুলিশ ও সামরিক বাহিনীকে লক্ষ্য করে এই ধরনের আক্রমণ চালানো হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।