বাংলাদেশের পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজের পরিধি বাড়াতে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে আড়ং। ব্র্যাক এবং মিশন গ্রিন বাংলাদেশের সাথে যৌথ অংশীদারিত্বের মাধ্যমে তারা তাদের বিশেষ উদ্যোগ ‘ব্রিং ইয়োর ওন ব্যাগ’ (BYOB) ক্যাম্পেইনের অধীনে দেশের ৪২টি জেলায় এক লাখেরও বেশি গাছ রোপণ করেছে। এই বিশেষ অভিযানের মূল লক্ষ্য ছিল পরিবেশের ক্ষতি কমিয়ে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা।
আড়ং-এর এই উদ্যোগটি মূলত গ্রাহকদের অভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে শুরু হয়েছিল। ব্র্যাক এন্টারপ্রাইজের ব্যবস্থাপনা পরিচালক তামারা হাসান আবেদ জানান, নিজেদের ব্যাগ সাথে রাখার একটি সাধারণ অভ্যাস আজ বৃক্ষরোপণ এবং প্রাকৃতিক পরিবেশ পুনরুদ্ধারের মতো বড় সাফল্যে রূপ নিয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের সামনে নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত এই ক্যাম্পেইনের প্রভাবে কাগজের ব্যাগের ব্যবহার আগের বছরের তুলনায় ৪৬.৮ লাখের বেশি কমেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এর ফলে প্রায় ৬ হাজার গাছ কাটা থেকে রক্ষা পেয়েছে। এই নির্দিষ্ট সময়ে কাগজের ব্যাগ বিক্রি থেকে মোট ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা আয় হয়েছে, যা সম্পূর্ণভাবে পরিবেশ পুনরুদ্ধার ও বৃক্ষরোপণে ব্যয় করার অঙ্গীকার করেছে আড়ং।
এই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন হিসেবে ব্র্যাকের ‘আলট্রা-পুওর গ্র্যাজুয়েশন’ প্রকল্পের মাধ্যমে ৯৫ হাজার ৩৮২টি ফলদ, ঔষধি এবং কাঠজাত গাছের চারা রোপণ ও বিতরণে অর্থায়ন করা হয়েছে। দেশের ৪২টি জেলার ২১০টি উপজেলার প্রায় ৪০ হাজার ১টি পরিবার এই চারাগুলো পেয়েছে। এর ফলে গ্রামীণ পরিবারগুলো একদিকে যেমন পুষ্টির চাহিদা মেটাতে পারবে, অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদে আয়ের উৎস তৈরি করে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারবে।
পাশাপাশি, পরিবেশের জীববৈচিত্র্য রক্ষায় মিশন গ্রিন বাংলাদেশের সাথে নিয়ে মিয়াওয়াকি ফরেস্ট তৈরির কাজ করছে আড়ং। এই বিশেষ পদ্ধতিতে ছোট জায়গায় দেশীয় প্রজাতির গাছ ঘনভাবে রোপণ করে দ্রুত ঘন বন তৈরি করা হয়। এরই অংশ হিসেবে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে একটি মিয়াওয়াকি ফরেস্ট এলাকায় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়, যেখানে আড়ং-এর গ্রাহক এবং সাংবাদিকরা সরাসরি অংশগ্রহণ করে এই সবুজায়নে অবদান রাখেন।




