রেললাইনের পাশেই একটি অস্থায়ী সেলুন, যেখানে বসার জন্য রয়েছে সাধারণ বস্তা আর রোদের তাপদাহ থেকে বাঁচতে মাথার ওপর একটি ছাতা। এই সামান্য সরঞ্জাম নিয়েই কাজ করে ১৬ বছর বয়সী কিশোর আনন্দ। রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার হরিচরণ লস্কর আমেনা গ্রামের বাসিন্দা আনন্দের জীবনের গল্পটি অত্যন্ত সংগ briefly এবং সংগ্রামের।

জন্মের আগেই আনন্দ তার পিতাকে হারিয়েছে। বর্তমানে তার মা রাজধানী ঢাকার একটি তৈরি পোশাক কারখানায় শ্রমিকের কাজ করেন। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্য মায়ের ওপর চাপ কমাতে এবং নিজেদের আর্থিক needs পূরণ করতেই আয়ের পথ খুঁজতে বাধ্য হয় এই কিশোর। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষ করলেও মাধ্যমিক স্তরে এসে থেমে যায় তার শিক্ষা। অষ্টম শ্রেণিতে পড়ার সময় চরম আর্থিক অনটনের কারণে তাকে স্কুল ছাড়তে হয়।

তবে পড়াশোনার পথ বন্ধ হয়ে গেলেও জীবন যুদ্ধে জয়ী হওয়ার চেষ্টা থামায়নি সে। নিজের খালাতো ভাইয়ের কাছ থেকে চুল ও দাড়ি কাটার কৌশল রপ্ত করে আনন্দ পেশাদারভাবে এই কাজে যুক্ত হয়। বর্তমানে তার হাতেই কাঁচি ও ক্ষুর, যা দিয়ে সে প্রতিদিনের জীবিকা নির্বাহ করে। আনন্দের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা আয় হয় তার এই ক্ষুদ্র সেলুন থেকে। এই উপার্জিত অর্থ দিয়ে সে যেমন নিজের ব্যক্তিগত খরচ মেটায়, তেমনি পরিবারের প্রয়োজনেও আর্থিক সহায়তা প্রদান করে।