রংপুরের এক তরুণীর জীবন গল্পের করুণ বাস্তবতায় ফুটে উঠেছে বাল্যবিয়ের ভয়াবহ প্রভাব। বয়স আঠারো বছর হওয়ার আগেই তাকে সংসারের দায়িত্ব নিতে হয়েছে এবং বর্তমানে তিনি তিন বছরের এক কন্যা সন্তানের জন‍্য লড়াই করছেন। শৈশবে পড়াশোনার প্রতি প্রবল আগ্রহ থাকলেও নবম শ্রেণিতে ওঠার আগেই পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তার বিয়ে সম্পন্ন হয়, যার ফলে মাঝপথেই থেমে যায় তার শিক্ষাজীবন। বই-খাতার জগৎ ছেড়ে তাকে খুব অল্প বয়সেই গৃহস্থালির কাজে নিয়োজিত হতে হয়।

হ্যালো বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সাথে আলাপকালে ওই তরুণী জানান, পড়াশোনা করে বড় হওয়ার স্বপ্ন থাকলেও পরিবারের সামনে তার ইচ্ছার কোনো মূল্য ছিল না। বিয়ের পর কেবল পড়াশোনা নয়, বরং স্কুল এবং বন্ধু-বান্ধবদের থেকেও তাকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যেতে হয়। এই তিক্ত অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাওয়া মা এখন চান তার মেয়ের ভবিষ্যৎ যেন তার নিজের জীবনের মতো না হয়। তিনি স্বপ্ন দেখেন তার সন্তান পর্যাপ্ত শিক্ষা গ্রহণ করে স্বাবলম্বী হবে।

তবে এই আশার পাশাপাশি তার মনে বাসা বেঁধেছে গভীর উদ্বেগ। তিনি মনে করেন, আমাদের সামাজিক কাঠামোয় এখনও মেয়েদের নিজস্ব মতামতকে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হয় না। এই প্রথাগত মানসিকতার কারণে তিনি আশঙ্কা করছেন যে, ভবিষ্যতে তার মেয়েকেও হয়তো বাল্যবিয়ের প্রবল চাপের মুখে পড়তে হতে পারে। ওই তরুণীর মতে, বাল্যবিয়ে কেবল একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনকেই ধ্বংস করে না, বরং এটি একটি মেয়ের স্বাধীনতা, স্বপ্ন এবং নিজের জীবন গড়ার মৌলিক সুযোগগুলোকেও কেড়ে নেয়।