বাঙালির ঐতিহ্য এবং রন্ধনশৈলীর এক অনন্য মেলবন্ধন ঘটিয়ে ভারতের রাজধানী নয়া দিল্লিতে আয়োজন করা হলো ‘ইলিশ ফেস্ট’। শনিবার দুপুরে নয়া দিল্লিতে অবস্থিত বাংলাদেশ হাইকমিশনের মৈত্রী মিলনায়তনে এই বিশেষ উৎসবটি অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত আয়োজনে বিভিন্ন পেশার গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতির মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও আতিথেয়তার বহিঃপ্রকাশ ঘটে।

বাংলাদেশ হাইকমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই উৎসবের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ছিল ঢাকা থেকে প্রকাশিত ‘এ ফিশ কলড হিলসা’ শীর্ষক একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন। অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিরা এই বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন। এই উৎসবের মূল উদ্দেশ্য ছিল বাঙালির সংস্কৃতি, খাদ্যরসিকতা এবং ঐতিহ্যের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ ইলিশ মাছকে কেন্দ্র করে একটি উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করা।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিদের জন্য ইলিশ মাছের বিভিন্ন বৈচিত্র্যময় পদ পরিবেশন করা হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী খাবার এবং বিশেষ রন্ধনশৈলীর নানা দিক প্রদর্শন করা হয়। এর মাধ্যমে অতিথিরা কেবল ইলিশের স্বাদই পাননি, বরং এর সঙ্গে জড়িত বাঙালির আবেগ এবং সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গভীরতা সম্পর্কে জানার সুযোগ পেয়েছেন।

এই বিশেষ আয়োজনে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভারতের সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম. জে. আকবর, সাবেক রাজনীতিক ও কূটনীতিক মণি শংকর আইয়ার, মানবাধিকারকর্মী সাইদা হামদি, ভারতের সাবেক রাষ্ট্রদূত রনেন সেন এবং বিশিষ্ট সমাজবিজ্ঞানী আশিস নন্দী। এছাড়া আরও অনেক কূটনীতিক, শিক্ষাবিদ ও সাংবাদিক এই উৎসবে অংশ নেন।

বইয়ের মোড়ক উন্মোচন পর্ব শেষে হাইকমিশনার রিয়াজ হামিদুল্লাহ তার বক্তব্যে বলেন, ইলিশ মাছ কেবল একটি খাদ্য নয়, বরং এটি বাংলাদেশের জাতীয় পরিচয়ের সঙ্গে গভীরভাবে মিশে আছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বাংলাদেশের সামাজিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোর সঙ্গে ইলিশের সম্পর্ক অত্যন্ত নিবিড়।