বিশ্বের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি স্থাপিত হয় ১৯৫৪ সালে রাশিয়ার মস্কো শহরের অদূরে অবনিনস্কে। সেখানে ব্যবহৃত হয়েছিল স্লো নিউট্রন বা থার্মাল নিউট্রন রিঅ্যাক্টর। বর্তমানে রাশিয়ার উড়াল অঞ্চলে বাণিজ্যিকভাবে কার্যকর একমাত্র 'ফাস্ট রিঅ্যাক্টর'ও রয়েছে, যেখানে দ্রুত গতির নিউট্রন ব্যবহার করা হয়। তবে পদার্থবিজ্ঞানীরা প্রথমে স্লো নিউট্রন রিঅ্যাক্টর নিয়েই গবেষণা শুরু করেছিলেন।
পারমাণবিক জ্বালানিতে ইউরেনিয়াম-২৩৫-এর পরিমাণ মাত্র কয়েক শতাংশ রাখা হয়। এর কারণ হলো, চেইন রিঅ্যাকশন যাতে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে না যায় এবং কোনো দুর্ঘটনা এড়ানো যায়। নিজস্ব প্রয়োজনমতো এই বিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করাও সম্ভব হয়। ইউরেনিয়াম-২৩৫ নিউক্লিয়াস ভাঙার জন্য দ্রুত নিউট্রনের চেয়ে মন্থর নিউট্রনই বেশি কার্যকর। তাই দ্রুত নিউট্রনগুলোকে মন্থর করতে গ্রাফাইট বা পানির ব্যবহার করা হয়। এতে নিউট্রনের গতি বহুগুণ কমে যায়, যেমনটি পানির মধ্যে দৌড়ালে মানুষের গতি কমে যায়।
যখন ইউরেনিয়াম-২৩৫ নিউক্লিয়াস ভেঙে যায়, তখন সৃষ্টি হয় দুটি নতুন মৌলের নিউক্লিয়াস — বেশিরভাগ ক্ষেত্রে স্ট্রোনসিয়াম ধাতু এবং জেনন নামক ভারী গ্যাস। বিভাজনের ফলে উৎপন্ন টুকরোগুলো দ্রুত গতিতে ছুটতে থাকে, তবে তারা অন্য নিউক্লিয়াস ভাঙতে পারে না। বরং তাদের আঘাতে জ্বালানি রডের পরমাণুগুলোতে কম্পন সৃষ্টি হয়, যা ক্রমে তীব্র হয়ে তাপমাত্রা বাড়ায়। একপর্যায়ে জ্বালানি রড এত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে পানির সংস্পর্শে এলেই তা বাষ্পীভূত হয়ে যায়।
এই বাষ্পই টারবাইন ঘোরানোর মূল চালিকাশক্তি। টারবাইন ঘুরলে বিদ্যুৎ জেনারেটর সচল হয় এবং বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। উৎপন্ন বিদ্যুৎ বৈদ্যুতিক তারের মাধ্যমে শিল্প-কারখানা, বাসগৃহ, রাস্তাঘাট, স্কুল-কলেজসহ বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করা হয়। আধুনিক জীবনযাত্রায় এই বিদ্যুতের ব্যবহার অপরিসীম — এটি জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে এবং মানুষের দৈনন্দিন জীবনে স্বাচ্ছন্দ্য আনে।
এই তথ্যগুলো রুশ রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি কর্পোরেশন রোসাটম, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন এবং পরমাণু শক্তি তথ্য কেন্দ্র, ঢাকা-এর সহযোগিতায় প্রকাশিত।




