সিলিকন ভ্যালির স্টার্টআপ সংস্কৃতির সাথে দীর্ঘকাল পরিচিত এবং সফল উদ্যোক্তা লুসি গুও দাবি করেছেন যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মানুষকে অবসর দেওয়ার বদলে আরও কঠোর পরিশ্রম করতে বাধ্য করছে। সাধারণ ধারণা করা হয় যে, এআই এবং অটোনোমাস এজেন্টরা কর্মীদের জীবন সহজ করবে, কিন্তু গুও মনে করেন এর প্রভাব বিপরীত হচ্ছে। সম্প্রতি 'ফরচুন ডেইলি শো'-তে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, এআই এজেন্টগুলো যখন কাজ করে, তখন সেগুলোর তদারকির জন্য কর্মীদের জাগ্রত থাকতে হয়। এই চাপের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, গত সপ্তাহে তিনি টানা ২৬ ঘণ্টা কাজ করেছেন কারণ তিনি ঘুমানোর কথা ভাবেননি।

লুসি গুওর এই অভিজ্ঞতা এআই এবং কর্মীবাহিনীর মধ্যকার একটি বড় বৈপরীত্যকে ফুটিয়ে তোলে। যদিও অনেক ডেভেলপার এআই ব্যবহার করে দ্রুত কাজ শেষ করতে পারছেন, কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে যে এর ফলে তাঁদের ওপর দায়িত্বের পরিমাণ আরও বেড়ে যাচ্ছে। ইউসি বার্কলের গবেষকরা যুক্তরাষ্ট্রের একটি প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ২০০ জন কর্মীর ওপর আট মাস ধরে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখেছেন যে, কর্মীরা আগের চেয়ে দ্রুত কাজ করছেন এবং স্বতঃস্ফূর্তভাবেই আরও বেশি দায়িত্ব গ্রহণ করছেন। ফলে তাদের কাজের সময়সীমা আরও দীর্ঘ হচ্ছে। পাশাপাশি, দ্রুত কাজ শেষ করার ফলে কাজের গুণগত মান বজায় থাকছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

তবে এআই-এর প্রভাবের পাশাপাশি লুসি গুও মানুষের দক্ষতার গুরুত্বের কথা স্বীকার করেছেন। তিনি মনে করেন, বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বা কোম্পানি পরিচালনার ক্ষেত্রে একে অপরের পরিপূরক দক্ষতা সম্পন্ন মানুষ খুঁজে বের করা জরুরি। কার্নেগি মেলন ইউনিভার্সিটিতে কম্পিউটার সায়েন্স পড়ার সময় নিজেকে গড়পড়তা শিক্ষার্থী হিসেবে অভিহিত করলেও, তিনি জানান যে দক্ষ ইঞ্জিনিয়ার চিনতে পারার মতো মৌলিক জ্ঞান তাঁর রয়েছে। তাঁর মতে, প্রকৃত মানুষই একটি সংস্থাকে গড়ে তোলে।

লুসি গুওর সফলতার পথ শুরু হয়েছিল বর্তমানের জেনারেটিভ এআই বিপ্লবের অনেক আগে। ২০১৬ সালে তিনি আলেকজান্ডার ওয়াংয়ের সাথে 'স্কেল এআই' (Scale AI) প্রতিষ্ঠা করেন, যদিও ২০১৮ সালে তিনি প্রতিষ্ঠানটি ছেড়ে দেন। পরবর্তীতে মেটা-র কাছে স্কেল এআই বিক্রির পর এবং তাঁর ভেঞ্চার ক্যাপিটাল ফার্ম 'ব্যাকএন্ড ক্যাপিটাল'-এর মাধ্যমে বিভিন্ন বিনিয়োগের ফলে তিনি বিলিয়নেয়ার হয়ে ওঠেন। এছাড়া ২০২২ সালে তিনি ক্রিয়েটর মনেটাইজেশন প্ল্যাটফর্ম 'পাসেস' (Passes)-এর সিইও হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। একসময় তিনি বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ স্ব-তৈরি নারী বিলিয়নেয়ার হিসেবে পরিচিত ছিলেন, যদিও গত বছর কালশি-র সহ-প্রতিষ্ঠাতা লুয়ানা লোপেস লারা তাঁকে ছাড়িয়ে যান। তবে এই খেতাব হারানোর বিষয়ে গুও ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দেখিয়েছেন। তিনি বলেন, এই খেতাব অন্য নারীর কাছে যাওয়া একটি ভালো লক্ষণ, কারণ এর অর্থ হলো মহিলারা জয়ী হচ্ছে।