আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) জবানবন্দি দিয়েছেন মেজর (অব.) মো. সাব্বির রহমান ওসমানী। সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় তিনি ১৩তম সাক্ষী হিসেবে হাজির হন। তার জবানবন্দিতে উঠে আসে আলকাছ মাঝি নামের এক ব্যক্তিকে হত্যার নির্দেশের ঘটনা। সাব্বির রহমান জানান, ২০১১ সালের জুন মাসে জিয়াউল আহসান তাকে ফোন করে আলকাছ মাঝি সম্পর্কে জানতে চান। আলকাছ গলফ অপারেশন সংক্রান্ত তথ্য চরদুয়ানী বাজারে প্রচার করছেন বলে তিনি জানান, যা র্যাবের নিরাপত্তার জন্য হুমকি। এ কারণে জিয়াউল তাকে আলকাছকে এলিমিনেট করার নির্দেশ দেন। কিন্তু সাব্বির অসুস্থতার অজুহাত দেখিয়ে দায়িত্ব এড়িয়ে যান। পরে জিয়াউল বলেন, 'থাক, লাগবে না।' ঘটনাটি সাব্বির তার অধিনায়ককে জানান। এর সপ্তাহখানেক পর আলকাছের পরিবার তার সন্ধান না পেয়ে র্যাব অফিসে আসে। আলকাছের স্ত্রী জানান, চার-পাঁচ দিন আগে জিয়াউল ফোন করে তাকে ডেকে নিয়ে যান, এরপর থেকে তার কোনো খোঁজ নেই।
গলফ অপারেশন প্রসঙ্গে সাব্বির রহমান বলেন, কোনো ব্যক্তিকে হত্যার পর পেট কেটে সিমেন্টের বস্তা বেঁধে নদীতে বা সাগরে ফেলে লাশ গুম করাকে 'গলফ অপারেশন' বলা হতো। জিয়াউলের সঙ্গে অভিযানে গেলে বেশিরভাগ সময় আলকাছই মাঝি হিসেবে থাকতেন। ২০১০ সালের মে মাসে এক সন্ধ্যায় জিয়াউল বরিশালে এসে র্যাব-৮ ব্যাটালিয়ন সদরে উপস্থিত হন। তার সঙ্গে ছিল সরকারি গাড়ি ও দুটি মাইক্রোবাস। অধিনায়ক ও জিয়াউল সাব্বিরকে সঙ্গে নিয়ে রওনা দেন। প্রায় দুই ঘণ্টা পর তারা চরদুয়ানী ঘাটে পৌঁছান। সেখানে আগে থেকে একটি মাছ ধরার ট্রলার প্রস্তুত ছিল। র্যাবের গোয়েন্দা শাখার সদস্যরা মাইক্রোবাস থেকে নেমে চারজনকে হাত বাঁধা ও মুখ ঢাকা অবস্থায় ট্রলারে তোলে। তাদের ট্রলারের খোলে ঢোকানো হয়। জিয়াউল ট্রলারটি মোহনার দিকে নিয়ে যেতে বলেন। আবহাওয়া প্রতিকূল থাকায় দেড় ঘণ্টা পর সামনে এগোনো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে। তখন জিয়াউল পানির গভীরতা মাপার নির্দেশ দেন। গভীরতা কমে আসায় তিনি গতি কমাতে বলেন। এরপর জিয়াউলের ইশারায় প্রথম ব্যক্তিকে পাটাতনে তোলা হয়। তার গলা ও পায়ে সিমেন্টভর্তি বস্তা বাঁধা হয়। র্যাবের এক সদস্য পিস্তল দিয়ে মাথায় গুলি করে, অন্য সদস্য পেট কেটে নাভি বরাবর ক্ষত করে। জিয়াউল সুকানিকে ইঞ্জিনের শব্দ বাড়াতে বলেন। পরে দেহটি পানিতে ফেলে দেওয়া হয়। একইভাবে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ব্যক্তিকেও হত্যা করা হয়। চতুর্থ ব্যক্তিকে খোল থেকে বের করা কঠিন হয়; তাকেও একই পদ্ধতিতে হত্যা করা হয়।
ঘটনার দু-তিন দিন পর সাব্বির গোয়েন্দা সূত্রে জানতে পারেন, শরণখোলা রেঞ্জের বলেশ্বর নদে পেট কাটা ও সিমেন্টের বস্তা বাঁধা একটি মরদেহ ভেসে উঠেছে। তিনি অধিনায়ককে জানালে তিনি জিয়াউলকে বিষয়টি অবহিত করতে বলেন। পরে ডিএনএ পরীক্ষায় মরদেহটি বিডিআরের সাবেক সদস্য নজরুলের বলে শনাক্ত হয়।




