বাংলাদেশের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল—নোয়াখালী, চট্টগ্রাম বন্দর এবং সিলেট পুনরায় ভারতের অধীনে ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়ে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছেন ভারতের ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সদস্য সংসদ নিশিকান্ত দুবে। শুক্রবার ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই-এর সঙ্গে এক আলাপচারিতায় তিনি এই স্পর্শকাতর দাবি উত্থাপন করেন।
নিশিকান্ত দুবের মতে, ১৯৪৬ থেকে ১৯৪৭ সালের সময়কালে তৎকালীন ত্রিপুরার রাজার মতামতকে গুরুত্ব না দিয়ে এই অঞ্চলগুলো ভারত ছেড়ে দিয়েছিল। এর জন্য তিনি সরাসরি ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরুকে দায়ী করেছেন। দুবের দাবি অনুযায়ী, ১৯৪৬ সালে যখন অন্তর্বর্তী সরকার গঠন করা হচ্ছিল, তখন মুসলিম লীগের সমর্থন পাওয়ার তীব্র ইচ্ছা ছিল নেহরুর। আর এই রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিল করতেই ত্রিপুরার রাজার মতামতকে উপেক্ষা করে এই তিনটি অঞ্চলের ভাগ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন যে, কেবল পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীর নয়, বরং নেহরুর কারণে যেসব ভূখণ্ড হস্তান্তর করা হয়েছিল, সেই নোয়াখালী, চট্টগ্রাম ও সিলেট পুনরুদ্ধারের সময় এখন এসেছে।
বিজেপি এমপির এই বিতর্কিত বক্তব্যের সাথে একমত পোষণ করেছেন ত্রিপুরার প্রাক্তন রাজার বংশধর এবং তিপরা মোថា দলের প্রধান প্রদ্যোত মানিক্য। তিনি অভিযোগ করেন, দেশভাগের সেই সময়ে তার দাদিকে অন্ধকারে রেখে ত্রিপুরা রাজ্যের এক বিশাল অংশ পূর্ব পাকিস্তানের কাছে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল, যাকে তিনি জাতীয় ইতিহাসের 'সবচেয়ে অন্ধকার সময়' হিসেবে অভিহিত করেন।
প্রদ্যোত মানিক্য ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ভৌগোলিক সংকটের কথা উল্লেখ করে বলেন, চট্টগ্রাম বন্দরটি হাতছাড়া করার ফলে ওই অঞ্চলের সরাসরি সমুদ্রপথে যাতায়াতের সুযোগ নষ্ট হয়েছে। তিনি মনে করেন, যদি সমুদ্রপথে যাতায়াতের পথ খোলা থাকত, তবে ভারতের মূল ভূখণ্ডের সাথে উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে যুক্তকারী সরু স্থলপথ বা তথাকথিত 'চিকেনস নেক' নিয়ে বর্তমানের মতো উদ্বেগ তৈরি হতো না।
নিশিকান্ত দুবে আরও বিস্তারিত জানান, ১৯৪৬ সালে অন্তর্বর্তী সরকারের নেতা হিসেবে নেহরু যখন মুসলিম লীগের সমর্থন খুঁজছিলেন, তখন রাজা বীর বিক্রম কিশোর মানিক্য এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন। রাজার সাথে নেহরুর সেই বিরোধের কথা উল্লেখ করে দুবে বলেন, রাজা বীর বিক্রম কিশোর মানিক্য প্রশ্ন তুলেছিলেন যে, কীভাবে নোয়াখালীকে পাকিস্তানের হাতে দেওয়া যায় অথবা সিলেট ও চট্টগ্রামে গণভোট চালানো যায়। রাজার দাবি ছিল, ওই অঞ্চলগুলো তার রাজ্যের অংশ এবং এর ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্ত তিনি নিজেই নেবেন—তা ভারত হোক, পাকিস্তান হোক কিংবা কোনো স্বাধীন রাষ্ট্র।




