যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এক চরম সংকটের মুখে পড়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ। বিশেষ করে অজনপ্রিয় ইরান যুদ্ধের প্রভাব এবং মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের শোচনীয় পরাজয়ের পর তাঁকে 'বলির পাঁঠা' বানানোর চেষ্টা চলছে বলে গুঞ্জন ছড়িয়েছে। আগামী সপ্তাহে প্রতিনিধি পরিষদে তাঁর বিরুদ্ধে অভিশংসন প্রস্তাবের পক্ষে ভোট হতে পারে বলে আলোচনা চলছে। যদিও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রকাশ্যে হেগসেথের কাজের প্রশংসা করেছেন, তবে ওয়াশিংটনের অধিকাংশ প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব এই মুহূর্তে তাঁর পাশে দাঁড়াতে আগ্রহী নন।
নিজের অবস্থান শক্ত করতে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে হেগসেথ সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আক্রমণাত্মক ভিডিও প্রকাশ করেছেন। সেখানে তিনি নিজেকে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের শিকার হিসেবে উপস্থাপন করেছেন এবং ট্রাম্পের সাথে সহযোদ্ধার ন্যায় লড়াই করার অঙ্গীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যেভাবে ধ্বংসাত্মক রাজনীতি চালানো হয়েছে, তাঁর ক্ষেত্রেও একই চেষ্টা করা হচ্ছে, তবে তিনি তাতে দমে যাবেন না। তবে সমালোচকদের মতে, যুদ্ধ চলাকালীন এই ধরণের আচরণ একজন প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বদলে ফক্স নিউজের সঞ্চালকের মতো, যা তাঁর পেশাদারিত্বের প্রশ্ন তুলছে।
ইরান যুদ্ধের কৌশলগত ব্যর্থতা এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে ইরানি হামলার তথ্য গোপন করার অভিযোগ হেগসেথের বিপদ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এই যুদ্ধের সমর্থনের কারণেই সিনেটের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে রিপাবলিকানরা। ইতিহাসবিদরা ২০ বছর আগের ইরাক যুদ্ধের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, যখন অজনপ্রিয়তার কারণে তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ডোনাল্ড রামসফেল্ডকে সরিয়ে দিতে হয়েছিল জর্জ ডব্লিউ বুশকে। বর্তমান পরিস্থিতি অনেকটা সেই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তির মতো বলে মনে করা হচ্ছে।
রাজনৈতিক সমীকরণে এখন ট্রাম্প এক কঠিন দোলাচলে। একদিকে তিনি হেগসেথকে বরখাস্ত করতে নারাজ, অন্যদিকে যুদ্ধের কারণে জনগণের তীব্র অসন্তোষ তাঁর ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। ডেমোক্র্যাটরা এখন প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ নিতে যাচ্ছে, যার ফলে আগামী বছরের প্রতিরক্ষা বাজেট পাস করানো হেগসেথের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে। নর্থ ক্যারোলাইনার বিদায়ী রিপাবলিকান সিনেটর টম টিলিস জানিয়েছেন, কংগ্রেসে বাজেট নিশ্চিত করার মতো প্রয়োজনীয় সম্পর্ক গড়তে হেগসেথ ব্যর্থ হয়েছেন এবং অনেক জ্যেষ্ঠ সদস্য তাঁকে দায়িত্বজ্ঞানহীন মনে করেন।
প্রতিনিধি পরিষদের হবু স্পিকার হাকিম জেফ্রিস এবং অ্যারিজোনার ডেমোক্র্যাট সিনেটর রুবেন গ্যালেগোর মতো নেতারা হেগসেথের পদের যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। গ্যালেগোর মতে, যুদ্ধের মতো গুরুতর সময়ে হেগসেথের প্রতিক্রিয়া ছিল হাস্যকর এবং তা তাঁর কর্তৃত্বকে আরও খর্ব করেছে। রিপাবলিকানদের ভেতর থেকেও ট্রাম্পবিরোধী আইনপ্রণেতা টমাস মেসি অভিশংসন প্রস্তাব আনার কথা বলেছেন। সব মিলিয়ে, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠতা থাকলেও রাজনৈতিক বাস্তবতার চাপে পিট হেগসেথ এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন।




