অনলাইনে পোশাক বা প্রসাধনীর বিজ্ঞাপন দেখলেই মনে হয় একটু কিনে ফেলি। ছাড়ের প্রলোভন, ভাইরাল পণ্যের আকর্ষণ, কিংবা অন্যদের কেনাকাটা দেখে নিজেরও কিছু কেনার ইচ্ছে জাগে। তবে আলমারিতে প্রায় একই রকম জিনিস থাকা সত্ত্বেও নতুন কিছু কেনার এই প্রবণতাকে রোধ করতেই অনেকে এখন নিজের জন্য নিয়ম তৈরি করছেন। নিজেকে বলা হয়, যা এখন জরুরি নয়, তা আপাতত কেনা হবে না। নির্দিষ্ট সময়ের জন্য এই সিদ্ধান্তই পরিচিত 'নো-বাই চ্যালেঞ্জ' নামে।
চ্যালেঞ্জটির মূল কথা হলো সম্পূর্ণ কিছু না কেনা নয়, বরং প্রয়োজন আর ইচ্ছার মধ্যে একটি স্পষ্ট পার্থক্য আঁকা। অংশগ্রহণকারীরা নিজেরাই ঠিক করেন কোন কোন জিনিস কিনবেন না। জরুরি খরচ যেমন বাজার, বাসাভাড়া, বিদ্যুৎ-পানি বিল, ওষুধ এবং নিত্য প্রয়োজনীয় যাতায়াত এই তালিকার বাইরে থাকে। কিন্তু নতুন পোশাক, জুতা, অতিরিক্ত প্রসাধনী, ঘর সাজানোর সামগ্রী বা অপ্রয়োজনীয় গ্যাজেট কেনা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করা হয়। নিয়ম সবার জন্য এক নয়। কারো জন্য এক মাস নতুন পোশাক না কেনাই লক্ষ্য, আবার কেউ বাইরের কফি বা খাবার অর্ডার বন্ধ রাখেন। কেউ চান ঘরে থাকা লিপস্টিক শেষ না হওয়া পর্যন্ত নতুন কিনবেন না, আর কেউ নিজের সবচেয়ে দুর্বল কেনাকাটার অভ্যাসটিকে চ্যালেঞ্জের কেন্দ্রে রাখেন।
সময়সীমাও নির্ধারিত হয় ব্যক্তিগত পছন্দে। এক সপ্তাহ, এক মাস, তিন মাস বা পুরো বছর—যে কারোর জন্য সহজ মনে হয় সে সেই সময় বেছে নিতে পারেন। সাধারণত অল্প সময় দিয়ে শুরু করা হয়, কারণ দীর্ঘ সময়ের জন্য সবকিছুতে লাগাম টানা কঠিন। তবে ধীরে ধীরে অভ্যাস নিয়ন্ত্রণে আসলে অনেকেই দীর্ঘমেয়াদী নিয়ম তৈরি করেন। মূল উদ্দেশ্য টাকা সাশ্রয়, যা অনেকেই বড় কোনো পরিকল্পনার জন্য করতে চান। আবার কারো লক্ষ্য ঘরে জমে থাকা অপ্রয়োজনীয় জিনিস কমানো বা নিজের কেনাকাটার প্রবণতা বোঝা।
চ্যালেঞ্জ চলাকালীন অনেকেই বুঝতে পারেন যে যে জিনিসটি একসময় অত্যন্ত দরকারি মনে হচ্ছিল, কয়েক সপ্তাহ পরে তার প্রতি আগ্রহ আর থাকে না। পুরোনো পোশাক নতুন করে ব্যবহারের উপায় বেরিয়ে আসে, বিভিন্ন পোশাকের সংমিশ্রণে নতুন সাজ তৈরি হয়। মেকআপ বা স্কিনকেয়ার কেনার আগে ঘরে থাকা পণ্যগুলো ব্যবহার করা শুরু হয়। ঘর সাজানোর নতুন জিনিসের বদলে পুরোনো জিনিস ঘুরিয়ে সাজিয়ে নতুনত্ব আনা হয়। এই চ্যালেঞ্জ আসলে আমাদের কাছে যা আছে তা-ই নতুন করে আবিষ্কারের সুযোগ তৈরি করে দেয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমই এই চ্যালেঞ্জকে জনপ্রিয় করে তুলেছে। অনেকেই নিজেদের নিয়ম, কঠিন মুহূর্ত এবং সঞ্চয়ের পরিমাণ অন্য অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে ভাগ করে নেন। একই ধরনের লক্ষ্যে থাকা মানুষদের অভিজ্ঞতা অন্যদের জন্য উৎসাহেরও কাজ করে। যাঁদের পক্ষে হঠাৎ সব কেনাকাটা বন্ধ করা কঠিন, তাঁদের জন্য রয়েছে 'লো-বাই' ধারণা। সেখানে কেনাকাটা সম্পূর্ণ বন্ধ না করে একটি সীমা নির্ধারণ করা হয়, যেমন এক মাসে এক টুকরো পোশাক কেনা যাবে, কিন্তু তার বেশি নয়। অথবা নতুন প্রসাধনী কেনার আগে পুরোনো শেষ করার শর্ত থাকে।
শেষ পর্যন্ত 'নো-বাই চ্যালেঞ্জ' শুধু অর্থ সঞ্চয়ের হিসাব নয়, বরং নিজের কেনাকাটার অভ্যাসকে নতুন করে যাচাই করার একটি সুযোগ। কী কিনছি, কেন কিনছি, সত্যিই সেটি প্রয়োজন কি না—এই প্রশ্নগুলোই চ্যালেঞ্জের মূল অংশ। এই উদ্যোগের মাধ্যমে অনেকেই একসময়ের বিলাসিতা মনে করা কম কেনাকাটাকেও এখন সচেতন জীবনযাত্রার অংশ হিসেবে দেখছেন।




