বয়ঃসন্ধিকালে সন্তানদের মানসিক জগতে যে নানা পরিবর্তন ঘটে, তা বোঝার উপায় নিয়ে পরামর্শ দিলেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক ডা. জোবায়ের মিয়া। প্রথম আলো ট্রাস্টের আয়োজনে ৩০ আগস্ট ২০২৬ তারিখে কারওয়ান বাজারের প্রথম আলো কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে ১৮০তম অনলাইন পরামর্শ সহায়তা সভা। 'সন্তানের মন বোঝার উপায়' শীর্ষক এই সভাটি সাক্ষাৎকার আকারে উপস্থাপন করা হয়েছে, যেখানে ডা. জোবায়ের মিয়া বিনা মূল্যে মাদকবিরোধী পরামর্শ সহায়তা কার্যক্রমের অংশ হিসেবে অংশগ্রহণ করেন।
ডা. জোবায়ের মিয়া বলেন, বয়ঃসন্ধিকালে ছেলেমেয়েদের মধ্যে একটি নিজস্ব ব্যক্তিত্ব ও সত্তা জাগ্রত হয়। তারা তখন একজন পরিপূর্ণ মানুষ হিসেবে নিজের পছন্দ-অপছন্দ প্রকাশ করার অধিকার দাবি করে। কিন্তু অভিভাবকদের মধ্যে অনেকে অতি স্নেহের কারণে বা সন্তানকে 'বাচ্চা' ভেবে সেই মতামতকে গুরুত্ব দেন না। পরিবারের কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় যদি সন্তানের মতামতকে প্রাধান্য না দেওয়া হয়, তাহলে তাদের মনে ক্ষোভ জমতে থাকে। এই ক্ষোভ থেকেই অভিভাবকদের সঙ্গে 'জেনারেশন গ্যাপ' বা মানসিক দূরত্ব তৈরি হয়।
তাই অভিভাবকদের প্রতি পরামর্শ হলো, সন্তান বড় হওয়ার এই সময়টিতে তাদের আচরণ ও মনোভাব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি। সন্তানের সঙ্গে খোলামেলা কথোপকথন এবং তাদের অনুভূতিকে সম্মান দেওয়ার মাধ্যমে এই মানসিক দূরত্ব কমানো সম্ভব। অন্যথায়, এই দূরত্ব দীর্ঘমেয়াদে পারিবারিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলেও মনে করেন এই চিকিৎসক।
এই পরামর্শ সভাটি প্রথম আলো ট্রাস্টের চলমান মাদকবিরোধী উদ্যোগের একটি অংশ। এর মাধ্যমে অভিভাবকদের সচেতনতা বাড়ানো এবং কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সহায়তা করাই মূল লক্ষ্য।




