অফিসে ছুটির আবেদন করলে অনেক সময় বস তা মঞ্জুর করতে চান না। এমন অভিযোগ কমবেশি সব প্রতিষ্ঠানেই শোনা যায়। তবে বসের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়া বা চাকরি ছেড়ে দেওয়া কোনো সমাধান নয়। বরং কৌশলী ও পরিকল্পিত পদক্ষেপে ছুটি পাওয়ার সম্ভাবনা বাড়ানো যায় বলে জানিয়েছেন মানবসম্পদবিষয়ক প্রতিষ্ঠান করপোরেট কোচের প্রধান পরামর্শক যিশু তরফদার। রাফিয়া আলমের লেখা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে তার পরামর্শগুলো।
প্রথমেই নিজের অধিকার সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি। বাংলাদেশের শ্রম আইনে কর্মীর কর্মঘণ্টা ও প্রাপ্য ছুটির বিস্তারিত নির্দেশনা রয়েছে। পাশাপাশি প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ছুটি সংক্রান্ত নীতিমালাও থাকে। এই দুই নীতিমালা যাচাই করে দেখতে হবে। প্রতিষ্ঠান যদি শ্রম আইন লঙ্ঘন করে, তবে সেক্ষেত্রে মানবসম্পদ বিভাগের কাছে বিষয়টি তুলে ধরা যেতে পারে। বিভিন্ন ধরনের ছুটি রয়েছে—কিছু ছুটি বছরের মধ্যেই নিতে হয়, আবার কিছু ছুটি পরবর্তী কয়েক বছরের জন্যও স্থগিত রাখা যায়। অর্জিত ছুটি ব্যবহার না করলে তার বিনিময়ে আর্থিক সুবিধা পাওয়ারও বিধান আছে। কিছু ক্ষেত্রে অবৈতনিক ছুটি নিতে হলে বেতন কর্তন হতে পারে। বিশেষ ছুটির দিনে কাজ করলে পরবর্তীতে তা নেওয়ার বা অতিরিক্ত ভাতা পাওয়ার সুযোগ আছে কি না, তাও জেনে রাখা ভালো। চাকরিতে যোগ দেওয়ার আগেই এসব বিষয়ে খোঁজ নেওয়া উচিত। আগে না জানা থাকলে অন্তত এখনই জেনে নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে, যাতে ঊর্ধ্বতনের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝি না হয়।
বস যেন ছুটি দিতে না চান, তার একটি কারণ হতে পারে কর্মীর দায়িত্বশীলতার অভাব। ছুটি পাওয়া যেমন অধিকার, তেমনি প্রতিষ্ঠানের কাজ সম্পন্ন করাও কর্মীর কর্তব্য। নির্দিষ্ট তারিখের মধ্যে কাজ শেষ করার শর্তেই চুক্তি হয়। তাই কোনো কাজ অসমাপ্ত রেখে ছুটি চাওয়া উচিত নয়। জরুরি প্রয়োজনে হুট করে ছুটির প্রয়োজন হলে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিষ্ঠানকে জানাতে হবে এবং পরবর্তীতে প্রমাণ হিসেবে চিকিৎসকের পরামর্শপত্রের মতো নথি জমা দিতে হবে। অন্যথায় অবিশ্বাস সৃষ্টি হতে পারে।
সঠিক পরিকল্পনা ও সহকর্মীদের সঙ্গে সুসম্পর্ক থাকলে ছুটির বিষয়টি সহজ হয়। ছুটিতে থাকাকালীন সহকর্মীরা দায়িত্ব সামলাবেন, আবার অন্য সহকর্মীর ছুটিতে তাকেও সাহায্য করতে হবে। একে অপরের অনুপস্থিতিতে কাজ সামলানোর বোঝাপড়া থাকা জরুরি। বসের সঙ্গে অযথা বিবাদে না গিয়ে ভদ্রভাবে নিজের প্রয়োজন জানানো উচিত। ছুটির আবেদনের সাথে নিজের কাজ কীভাবে সম্পন্ন হবে তার একটি লিখিত পরিকল্পনা দিলে ভালো হয়। কোন সহকর্মী দায়িত্ব নেবেন, তাও জানিয়ে রাখা প্রয়োজন। বছরের শুরুতে সবাই মিলে ছুটির পরিকল্পনা করলে জটিলতা কমে। প্রতিষ্ঠানের নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় আগে ছুটির আবেদন করতে হবে।
তবে সব নিয়ম মেনেও যদি বস অন্যায়ভাবে ছুটি না দেন, তাহলে বসের উর্ধ্বতন বা মানবসম্পদ বিভাগকে বিষয়টি জানাতে হবে। লিখিতভাবে অন্যায়ের প্রমাণ উপস্থাপন করা ভালো। আবেগের বশে চাকরি ছেড়ে দেওয়া উচিত নয়। অনুমোদন ছাড়া ছুটি কাটালে ক্যারিয়ারে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে এবং চাকরি হারানোর ঝুঁকিও থাকে। কিছু পেশায় জরুরি দায়িত্ব সামলাতে হয়, সেকথা পরিবার ও বন্ধুদেরও বুঝিয়ে বলা দরকার। এই সব বিষয় মেনে চললে ছুটি পাওয়ার পথ সহজ হবে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞ।




