সরকারি নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের এক ভয়াবহ ও পরিকল্পিত চক্রের কথা জানা গেছে। এই চক্রটি চাকরিপ্রার্থীদের সংকেত হিসেবে 'মেহমান' বলে সম্বোধন করত। তাদের ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাটে এমন কিছু নির্দেশনা পাওয়া গেছে, যেখানে লেখা ছিল— 'টাকা কোথায়? মেহমানদের তালিকা পাঠাও। নতুন কোনো মেহমান নেবে না। মিডিয়া বা প্রশাসন মেহমান সেজে ঝামেলা করতে পারে।' এর মাধ্যমে স্পষ্ট হয় যে, তারা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল।

তদন্তে জানা গেছে, প্রশ্নপত্র সংগ্রহের প্রক্রিয়াটি ছিল অত্যন্ত দুঃসাহসিক এবং ঝুঁকিপূর্ণ। পিএসসির ট্রাংক কেটে কিংবা প্রেসের বাথরুমের মতো গোপন জায়গা থেকে অন্তর্বাসের ভেতরে লুকিয়ে প্রশ্নপত্র বাইরে নিয়ে আসা হতো। তবে প্রশ্নপত্র সংগ্রহের পর শুরু হতো সবচেয়ে জটিল ও ঝুঁকিপূর্ণ পর্যায়। ফাঁস হওয়া প্রশ্নপত্রগুলো নিয়ে চাকরিপ্রার্থীদের একটি গোপন আস্তানায় জড়ো করা হতো। সেখানে কড়া পাহারার মধ্যে পুরো রাত ধরে তাদের প্রশ্ন ও তার সঠিক উত্তরগুলো মুখস্থ করানো হতো, যাতে তারা পরীক্ষায় অংশ নিয়ে সহজেই সফল হতে পারে। মূলত টাকার বিনিময়ে এই পুরো সুবিধা প্রদান করা হতো এবং প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিতে তারা অত্যন্ত গোপনীয়তা বজায় রাখত।