রাজধানীর ইসিবি চত্বর সংলগ্ন নিউ গিনি আবাসন প্রকল্পে হামলা, চুরি এবং ভাঙচুরের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য আব্দুল গফুরের জামাতা মিজানুর রহমানসহ তিন ব্যক্তিকে তিন দিনের রিমান্ডে দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনিরুল ইসলাম তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে এই নির্দেশ প্রদান করেন। রিমান্ডে নেওয়া বাকি দুই আসামি হলেন শাহ আলম এবং শাহরিয়ার মাহমুদ।
পুলিশি তথ্যানুযায়ী, গত সোমবার বিকেলে পশ্চিম মাটিকাটা এলাকায় সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতেই গোয়েন্দা পুলিশ মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে এবং পরদিন তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। শাহরিয়ার ও শাহ আলমকে তার আগেই জেলহাজতে পাঠানো হয়েছিল। বুধবার ক্যান্টনমেন্ট থানার ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ আল আমিন আসামিদের পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়েছিলেন, যা শুনানি শেষে আদালত তিন দিন মঞ্জুর করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে শুনানি চলাকালীন ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী জানান, এই মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখা হচ্ছে। নিউ গিনি প্রোপার্টিজের সাথে আসামিদের দীর্ঘদিনের সম্পত্তি সংক্রান্ত বিরোধ ছিল এবং তারা ওই এলাকা দখলের চেষ্টা করছিল। হামলার সময় সেখানে অবস্থিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের ‘ব্রাউনফিশ’ স্টুডিওটিও ভাঙচুর করা হয়। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, জামায়াতের আমির ওই এলাকায় চাঁদাবাজির বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়ার সময় মিজানুর রহমান তার পাশে ছিলেন এবং ঘটনার পর বিষয়টিকে রাজনৈতিক রূপ দিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালানো হয়েছে।
অন্যদিকে, মিজানুর রহমানের আইনজীবী শওকত হোসেন রিমান্ডের বিরোধিতা করে জামিনের আবেদন জানান। তার দাবি, নিউ গিনির পরিচালক সাইফুল ইসলাম মিজানুরের কাছ থেকে এক কোটি টাকা নিয়েছেন এবং সেই টাকা ফেরত না দেওয়ার উদ্দেশ্যেই তাকে এই মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেভ প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করে তিনি দাবি করেন, ঘটনাটি রাত সাড়ে আটটার পর ঘটলেও মিজানুর রাত ৮টা ২৩ মিনিটে বাসায় প্রবেশ করেছিলেন এবং পরদিন পর্যন্ত সেখানেই ছিলেন, ফলে তার উপস্থিতির প্রশ্নই ওঠে না। শাহরিয়ার মাহমুদ ও শাহ আলমের আইনজীবীরাও একইভাবে জামিন প্রার্থনা করেন।
উল্লেখ্য, গত শনিবার রাতে দক্ষিণ মানিকদীতে নিউ গিনি প্রপার্টিজে এই ভয়াবহ হামলা ও লুটপাট চালানো হয়। এই ঘটনায় নিউ গিনি প্রপার্টিজের পরিচালক সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া ক্যান্টনমেন্ট থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। উক্ত মামলায় অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন চৌধুরীসহ ১৩ জনের নাম নির্দিষ্ট করা হয়েছে এবং আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে অজ্ঞাত আসামি হিসেবে রাখা হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তাদের মতে, প্রাথমিক তদন্তে জমির দখল-বেদখল সংক্রান্ত বিরোধ সামনে এলেও প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। এর আগে বুধবার এই মামলায় মামুন, মো. আসলাম ও মো. মুন্না নামের আরও তিনজনকে তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়েছিল।




