জাতীয় কিডনি রোগ ও ইউরোলজি ইনস্টিটিউট (নিকডু) এবং চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব বা পিপিপি-র আওতায় পরিচালিত ডায়ালাইসিস সেন্টারটি চালু রাখার জন্য জোরালো দাবি জানিয়েছেন সেবাগ্রহীতা রোগী ও তাদের পরিবারবর্গ। শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘ডায়ালাইসিস সেন্টার (পিপিপি) রক্ষা ও রোগী কল্যাণ কমিটি’র আয়োজনে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানানো হয়। বর্তমানে ঢাকায় ১৩০ জন এবং চট্টগ্রামে ২৭০ জন রোগী নিয়মিত এই কেন্দ্রের সেবা নিচ্ছেন।

কমিটির সভাপতি মো. লুৎফুর রহমান রিপন সংবাদ সম্মেলনের লিখিত বক্তব্যে জানান, ২০১৭ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ভারতীয় প্রতিষ্ঠান স্যান্ডর মেডিকেইডস প্রাইভেট লিমিটেডের সাথে ১০ বছর মেয়াদে একটি চুক্তি করে। এই চুক্তির অধীনে নিকডুতে ৫৯টি মেশিন বসিয়ে ডায়ালাইসিস সেবা শুরু হয়, যা আরও ১০ বছর বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল গত ২৯ জুলাই এক অনুষ্ঠানে জানান, একটি বিদেশি কোম্পানি এই বাজার দখল করে রেখেছিল, তাই নভেম্বরে চুক্তির মেয়াদ শেষ হলে তা আর নবায়ন করা হবে না। সরকার এখন নিজস্ব অর্থায়নে নতুন মেশিন কেনার পরিকল্পনা করছে।

রোগীদের দাবি অনুযায়ী, সরকারি ব্যবস্থাপনার চেয়ে পিপিপি চুক্তির অধীনে স্যান্ডরের সেবা অনেক বেশি সাশ্রয়ী ও নিরাপদ। সরকারি ভর্তুকি মিলিয়ে এখানে প্রতিবার ডায়ালাইসিসের খরচ মাত্র ৬২১ টাকা এবং আনুষঙ্গিক সব উপকরণ বিনামূল্যে পাওয়া যায়। এছাড়া ১৮ জন রোগী সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সেবা পাচ্ছেন। এখানে অটোমেটেড মেশিনের মাধ্যমে কেমিক্যাল ও ওষুধ ব্যবহার করে ডায়ালাইজার জীবাণুমুক্ত করা হয়।

অন্যদিকে, সরকারি ব্যবস্থাপনার তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে লুৎফুর রহমান রিপন বলেন, সেখানে ছয় মাসের ডায়ালাইসিসের জন্য ২০ হাজার টাকা অগ্রিম জমা দিতে হয়। রোগী মারা গেলেও বাকি টাকা ফেরত পাওয়া যায় না। এছাড়া সরকারি ব্যবস্থায় সপ্তাহে দুইবারের বেশি ডায়ালাইসিসের সুযোগ নেই এবং মাসে মাত্র দুটি ডায়ালাইজার বরাদ্দ থাকে। হাতে ডায়ালাইজার ধোয়ার কারণে জীবাণু সংক্রমণে রোগীরা শারীরিক সমস্যায় ভোগেন এবং যন্ত্রের ত্রুটির কারণে নির্ধারিত চার ঘণ্টার বদলে দুই থেকে তিন ঘণ্টা পরেই সেবা বন্ধ করে দেওয়া হয়। বাইরে থেকে স্যালাইন, গ্লাভস ও ওষুধ কিনতে হওয়ায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্রতিবার কমপক্ষে ২ হাজার টাকা খরচ হয় বলে তারা দাবি করেন।

নতুন যন্ত্র কেনার জন্য আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করা হবে এবং স্যান্ডরের জায়গাতেই তা বসানো হবে বলে জানাশোনা গেছে, যাতে অন্তত ছয় মাস সময় লাগবে। এই অন্তর্বর্তী সময়ে রোগীদের সরকারি হাসপাতালে চলে যেতে বলা হয়েছে। রিপনের মতে, নিকডুর সেন্টারটিকে পিপিপি থেকে সরিয়ে সরকারি করার চেষ্টা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের একটি অসাধু চক্রের বৈষম্যমূলক চক্রান্ত। এছাড়া এই কেন্দ্র বন্ধ হলে সেখানে কর্মরত দক্ষ বাংলাদেশি কর্মীরা বেকার হয়ে পড়বেন।

বিষয়টিকে রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক মোড় না দিয়ে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখার অনুরোধ জানান কমিটির সভাপতি। তিনি প্রস্তাব করেন, সরকার যদি স্যান্ডরের সাথে চুক্তি করতে না চায়, তবে তাদের বর্তমান অবকাঠামো ও জনবল অধিগ্রহণ করে দেশীয় কোনো প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পিপিপি মডেলটি চালু রাখা যেতে পারে। রোগীদের মূল চাওয়া হলো, প্রতিষ্ঠান যে কেউ হোক, তাদের জীবন বাঁচানোর জন্য পূর্বের নিয়মতান্ত্রিক সেবার ব্যবস্থা যেন সচল থাকে। সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন কমিটির দপ্তর সম্পাদক মো. মনিরুজ্জামান এবং দীর্ঘ আট বছর ধরে সেবা নেওয়া রোগী শামীমা মির্জা।