নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লা এলাকার কাশিপুরা হাজীপাড়ায় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় পাঁচ মাদ্রাসা ছাত্রী বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে আহত হয়েছে। আজ শনিবার বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে মাহেলা খাতুন বালিকা মাদ্রাসার তিনতলা ভবনের ছাদে খেলার সময় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে। দগ্ধ ছাত্রীদের পরিচয় পাওয়া গেছে— ১৪ বছর বয়সী মোছাম্মদ জিদনি ও লামিয়া, ১২ বছর বয়সী মরিয়ম, ১১ বছর বয়সী আতিয়া এবং ১০ বছর বয়সী আছিয়া। ঘটনার পরপরই তাদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপসহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফিন স্থানীয় সূত্রে জানান, ছাত্রীরা যখন ছাদের ওপর খেলছিল, তখন তাদের হাতে একটি আখ ছিল। ভবনের ছাদের খুব কাছ দিয়েই উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন বৈদ্যুতিক সঞ্চালন তার গিয়েছে। অসাবধানতাবশত ওই আখটি যখন বৈদ্যুতিক তারের সংস্পর্শে আসে, তখনই ছাত্রীরা তীব্র বৈদ্যুতিক শক খেয়ে দগ্ধ হয়।

জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের আবাসিক চিকিৎসক সুলতান মাহমুদ শিকদার নিশ্চিত করেছেন যে, ১২ থেকে ১৪ বছর বয়সী পাঁচজন দগ্ধ ছাত্রী তাদের জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। বর্তমানে তারা চিকিৎসাধীন এবং নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। চিকিৎসকদের মতে, রোববার সকালে তাদের শারীরিক অবস্থার প্রকৃত অগ্রগতি জানা যাবে।

মাদ্রাসাটির পরিচালক মুফতি আবদুর রহমান জানান, তাদের এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে বিভিন্ন শ্রেণিতে মোট আড়াইশ ছাত্রী পড়াশোনা করে। তিনি জানান, বিকেলে কয়েকজন শিক্ষার্থী ছাদে খেলতে গিয়ে এই বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনার শিকার হয়, যার ফলে পাঁচজন দগ্ধ হয়েছে। দ্রুত তাদের রাজধানীর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।