বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলার কোদালিয়া ইউনিয়নের কচুড়িয়া গ্রামে এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এখানে মুসলিমা খাতুন নামের সাত বছর বয়সী এক শিশুর গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার রাত ৯টার দিকে এক প্রতিবেশীর পানের বরজের পাশ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয় বলে নিশ্চিত করেছেন জেলা পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলাম। নিহত শিশুটি ওই গ্রামের মধ্যপাড়ার ইসলাম শেখের কন্যা।

পুলিশি তদন্ত ও প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, শনিবার বিকেলে মুসলিমা বাড়ির পাশের মাঠে বন্ধুদের সাথে খেলাধুলা করছিল। তবে সন্ধ্যা হয়ে গেলেও সে বাড়ি ফিরে আসেনি। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে খুঁজতে শুরু করেন এবং একপর্যায়ে প্রতিবেশীর পানের বরজের পাশে তার রক্তাক্ত মরদেহটি দেখতে পান। তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি পুলিশকে অবহিত করা হয়।

এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রাথমিক সন্দেহে প্রতিবেশী জাহাঙ্গীর এবং তার দুই পুত্রকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। তবে খুনের প্রকৃত কারণ এবং অপরাধীদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি; পুলিশ জানিয়েছে, বিস্তারিত তদন্তের পর সবকিছু পরিষ্কার হবে। রোববার সকালে মৃতদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য বাগেরহাট ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতাল মর্গে পাঠানোর কথা রয়েছে।

এদিকে, শিশুটির মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। উত্তেজিত হয়ে গ্রামবাসী অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর ও তার পরিবারের বসতবাড়ি এবং পানের বরজে আগুন ধরিয়ে দেয়। মোল্লাহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুমনা আইরিন জানান, ঘটনার পর থেকে ওই এলাকার পরিস্থিতি বেশ উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং শান্তি বজায় রাখতে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন বর্তমানে ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে।