নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় কিশোর নাঈম হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করে সংবাদ সম্মেলন করেছে স্থানীয় পুলিশ। শনিবার সুবর্ণচরের চরজব্বর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল হাসান এবং স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়নের (এসআরবি) ওয়ারেন্ট অফিসার মোহাম্মদ হারেজ উদ্দিন এই ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ প্রদান করেন। পুলিশের তদন্ত ও ঘাতক বাবার আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে জানা গেছে, অত্যন্ত নিখুঁত পরিকল্পনার মাধ্যমে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছিল।

তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সোমবার রাত আড়াইটার দিকে খলিলুর রহমান তাঁর ছেলে নাঈমকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তোলেন। নাঈম যখন কিছুই বুঝতে পারছিল না, তখনই তাকে নানার বাড়ির পাশের একটি নির্জন ধানখেতের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে রাস্তার পাশের একটি গাছে জোরে ধাক্কা দিয়ে তাকে ফেলে দেন খলিলুর। এরপর সাথে থাকা একটি গামছা দিয়ে ঘাতক বাবা তাঁর ছেলের শ্বাসরোধ করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন। গত মঙ্গলবার দুপুরে মধ্য বাগ্যা গ্রামের একটি ধানখেতের পাশ থেকে নাঈমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত কিশোর দারুল উলুম মাদানী নগর মাদ্রাসার নাজেরা বিভাগের ছাত্র ছিল।

পুলিশের নজরদারি এবং আধুনিক প্রযুক্তির ফাঁকি দিতে খলিলুর রহমান এক বিশেষ কৌশল অবলম্বন করেছিলেন। তিনি ফেনী জেলা থেকে নোয়াখালীতে আসার আগে নিজের মোবাইল ফোনটি বন্ধ করে সেখানে রেখে এসেছিলেন, যাতে ডিজিটাল লোকেশন ট্র্যাক করে পুলিশ তাঁকে ঘটনাস্থলে খুঁজে না পায়। এরপর বিভিন্ন যানবাহন পরিবর্তন করে এবং ভাড়ায় মোটরসাইকেল ব্যবহার করে তিনি চরজব্বরে পৌঁছান। হত্যাকাণ্ড শেষ করে তিনি পুনরায় ফেনীতে ফিরে যান এবং সেখানে গিয়ে বন্ধ ফোনটি চালু করেন, যাতে মনে হয় তিনি নোয়াখালীতে উপস্থিত ছিলেনই না।

তবে এই কৌশলী পরিকল্পনা পুলিশকে বিভ্রান্ত করতে পারেনি। নোয়াখালী জেলা পুলিশের তথ্যপ্রযুক্তি বিভাগ এবং এসআরবি-১১ এর যৌথ তদন্তে খলিলুর রহমানের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হয়। পুলিশ জানায়, তিনি শুরু থেকেই তাদের সন্দেহের তালিকায় ছিলেন। কৌশল হিসেবে ছেলের জানাজায় বারবার ফোন করে তাঁকে ডেকে আনা হয় এবং পরবর্তীতে কৌশলে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। জিজ্ঞাসাবাদের মুখে তিনি অপরাধ স্বীকার করেন। গতকাল শুক্রবার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট হামিদুল ইসলামের আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় খলিলুর রহমান তাঁর অপরাধের কথা জবানবন্দি দেন। এই নৃশংস ঘটনায় নিহতের মা ফাতেমা আক্তার সুমি বাদী হয়ে তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন।