আগামী নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের কাছ থেকে প্রতিনিধি சபায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারলে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, তার পরিবার এবং প্রশাসনের বিরুদ্ধে এক বিশাল তদারকি কর্মসূচি শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে ডেমোক্র্যাটরা। তাদের এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো প্রশাসনের অভ্যন্তরে ছড়িয়ে থাকা ব্যাপক দুর্নীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের বিষয়গুলো উদঘাটন করা। ডেমোক্র্যাট নেতাদের মতে, সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে তারা বড় বাজেট এবং পর্যাপ্ত কর্মী নিয়োগের মাধ্যমে তদন্ত পরিচালনা, সাবপিনা জারি এবং ভুল সিদ্ধান্তগুলো সংশোধন করার ক্ষমতা পাবেন। এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে প্রেসিডেন্ট এবং তার ক্যাবিনেট সদস্যদের অভিশংসন বা ইমপিচমেন্টের বিষয়টিও তারা বিবেচনা করছেন।

নিউ ইয়র্কের ডেমোক্র্যাট নেতা হাকীম জেফ্রিজ, যিনি জয়লাভ করলে প্রতিনিধি সভার স্পিকার হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে থাকবেন, তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে মার্কিন জনগণের সাথে যারা প্রতারণা করেছে বা অর্থ চুরি করেছে, তাদের জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে। তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে 'নিয়ন্ত্রণহীন দুর্নীতি' হিসেবে বর্ণনা করেছেন। ডেমোক্র্যাটরা ইতিমধ্যেই প্রশাসনের কাছে নিয়মিত চিঠি পাঠানো এবং আদালতের নথির মাধ্যমে তাদের তদন্তের একটি রূপরেখা তৈরি করে রেখেছে।

তদন্তের প্রধান ক্ষেত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউসে ফেরার পর ট্রাম্প এবং তার পরিবারের সম্পদের নাটকীয় বৃদ্ধি। এছাড়া, মার্কিন ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট (ICE) অভিযানের সময় বিক্ষোভকারীদের মৃত্যু এবং অভিবাসীদের জোরপূর্বক বহিষ্কারের মাধ্যমে নাগরিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখার পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। সম্প্রতি ট্রাম্পের ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের একটি বিয়ের অনুষ্ঠান রুশ অলিগার্কের অর্থায়নে হয়েছে বলে জানা যাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।

বিচারিক কমিটির সম্ভাব্য চেয়ারম্যান রিপাবলিকান প্রতিনিধি জেমি রাস্কিন এই দুর্নীতিকে 'বিশাল' বলে অভিহিত করেছেন এবং দ্রুত এর প্রতিকার খোঁজার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। তবে ট্রাম্পের তৃতীয়বারের মতো ইমপিচমেন্টের বিষয়ে দলের ভেতরে ভিন্ন মত থাকতে পারে, কারণ আগের দুইবার তিনি সিনেটে খালাস পেয়েছিলেন। ফলে ডেমোক্র্যাটরা এবার ক্যাবিনেট সদস্যদের দিকে বেশি নজর দিতে পারেন। উদাহরণস্বরূপ, প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ ইতিমধ্যেই তার নেতৃত্ব ও ইরান যুদ্ধ পরিচালনার কারণে ইমপিচমেন্টের মুখে পড়েছেন।

প্রতিনিধি সভার বিভিন্ন কমিটির সম্ভাব্য প্রধানরা তাদের অগ্রাধিকার তালিকা তৈরি করেছেন। ক্যালিফোর্নিয়ার রবার্ট গার্সিয়া ট্রাম্প পরিবারের ব্যবসায়িক লেনদেন, জেফরি এপস্টাইন তদন্ত এবং স্বাস্থ্যসেবা দপ্তরের কার্যক্রম তদারকির কথা জানিয়েছেন। অন্যদিকে, বৈদেশিক সম্পর্ক কমিটির প্রতিনিধি গ্রেগরি মিক্স ইরানের যুদ্ধ এবং ভেনজুয়েলার তেল উত্তোলনে বেসরকারি কোম্পানির সাথে মার্কিন অংশীদারিত্ব নিয়ে তদন্ত করতে চান। প্রাকৃতিক সম্পদ কমিটির প্রতিনিধি জ্যারেড হাফম্যান হোয়াইট হাউসের পূর্ব উইং ভেঙে নতুন বলরুম তৈরির মতো ট্রাম্পের ব্যক্তিগত বিলাসবহুল প্রকল্পগুলো এবং খনিজ ব্যবসার লেনদেন খতিয়ে দেখার পরিকল্পনা করছেন।

ডেমোক্র্যাটরা সতর্ক যে, তদন্ত শুরু হলে হোয়াইট হাউস কঠোর অবস্থান নিতে পারে, সাবপিনা উপেক্ষা করতে পারে অথবা প্রয়োজনীয় নথিপত্র দিতে অস্বীকার করতে পারে। তা সত্ত্বেও, তারা জানান যে তারা কংগ্রেসের পূর্ণ ক্ষমতা ব্যবহার করে সাক্ষীদের তলব করবেন এবং প্রমাণের ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেবেন।