পশ্চিম এশিয়ার সংঘাত নিরসন এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার বিষয়ে ইরানের দেওয়া প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। সম্প্রতি নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ইরান তাদের এই শান্তি উদ্যোগের কথা জানায়। তেহরান জানিয়েছিল, কাতারের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে তারা ওয়াশিংটনের কাছে নির্দিষ্ট কিছু প্রস্তাব পাঠিয়েছে, যা মেনে নিলে আগামী সাত দিনের মধ্যে ওই অঞ্চলের যুদ্ধ বন্ধ হতে পারে এবং জলপথটি উন্মুক্ত হতে পারে।

তবে হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্টভাবে জানান যে, তিনি ইরানের এই প্রস্তাব ও চুক্তি কোনোটিই গ্রহণ করছেন না। ট্রাম্পের দাবি, ইরান বর্তমানে যুদ্ধে শোচনীয়ভাবে পরাজিত হচ্ছে এবং তাদের আয়ের প্রধান উৎস হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তারা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্যই তারা দ্রুত চুক্তি করতে আগ্রহী। যদিও ট্রাম্প ব্যক্তিগতভাবে চুক্তি করতে পছন্দ করেন, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি ইরানের শর্ত মেনে নিতে রাজি নন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানজুড়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি হামলার মধ্য দিয়ে এই যুদ্ধের সূচনা হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান হরমুজ প্রণালি কার্যকরভাবে অবরুদ্ধ করে রাখে, যার ফলে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটে। জলপথটি খুলে দিতে তেহরানের ওপর চাপ বাড়াতে ওয়াশিংটন কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। তা সত্ত্বেও ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, প্রণালিটি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প ইরানের শর্ত পূরণের বিষয়ে ব্যক্তিগতভাবে সন্দিহান। তিনি তার কর্মীদের জানিয়েছেন, নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর তিনি পুনরায় বোমা হামলা অভিযান শুরু করার কথা ভাবছেন। ইরানের প্রস্তাবে লেবাননসহ সব যুদ্ধক্ষেত্রে অবিলম্বে সংঘাত বন্ধ, মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার, জব্দ করা ইরানি সম্পদ ফেরত প্রদান এবং তেল রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি জাতিসংঘ সদর দপ্তরে জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সদিচ্ছা থাকলে তারা এখনই চুক্তি করতে প্রস্তুত। ওয়াশিংটন রাজি হলে সংঘাত পরবর্তী সময়ে পারমাণবিক কর্মসূচি এবং অন্যান্য পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে আলোচনার প্রস্তাব দেয় তেহরান। তবে রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা স্পষ্ট করেছেন যে, শান্তি চুক্তি হলেও ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা পারমাণবিক কর্মসূচির বিষয়ে ইরান কোনো আপস করবে না। তারা তাদের এই অধিকারের বিষয়ে অটল থাকবে। মার্কিন কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে আগে ইতিবাচক আলোচনার কথা বলা হলেও ট্রাম্পের এই প্রত্যাখ্যানে বর্তমানে আনুষ্ঠানিক উত্তরের অপেক্ষায় রয়েছে তেহরান।