ভারতের নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে বড়সড় বিতর্কের মুখে ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার জন্য ব্যবহৃত সফটওয়্যারটি পর্যালোচনার নির্দেশ দিয়েছে দেশটির নির্বাচন কমিশন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে ভোটার তালিকায় কারচুপির অভিযোগ ওঠার পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে বিরোধী দলগুলোর দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বাধীন ভারতীয় জনতা পার্টিকে (বিজেপি) রাজনৈতিক সুবিধা পাইয়ে দিতে ইচ্ছাকৃতভাবে লাখ লাখ ভোটারের নাম তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের জোরালো দাবি উঠেছে। 'ককরোচ জনতা পার্টি' (সিজেপি) সহ বিভিন্ন বিরোধী দল সতর্ক করে জানিয়েছে, তিনি পদত্যাগ না করলে আগামী ২ অক্টোবর থেকে দেশজুড়ে তীব্র বিক্ষোভ কর্মসূচি শুরু হবে। একইসঙ্গে কমিশন এবং কমিশনারদের মধ্যে অভ্যন্তরীণ সংঘাতের বিষয়টিও প্রকাশ্যে এসেছে। 'দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস'-এর এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, গত ১০ মাসের ব্যবধানে বাকি দুই নির্বাচন কমিশনার অন্তত ১৪ বার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে বিভিন্ন বিষয়ে উদ্বেগ ও প্রশ্ন তুলেছেন। যার অধিকাংশ প্রশ্নই ছিল গত বছরের ভোটার তালিকা হালনাগাদ প্রক্রিয়া সংক্রান্ত।
তবে কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যেকোনো প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে মতাদর্শিক ভিন্নতা বা বিশ্লেষণগত পার্থক্য থাকা একটি স্বাভাবিক বিষয় এবং তাদের প্রতিটি পদক্ষেপ আইন মেনেই করা হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে কমিশন শনিবার ঘোষণা করেছে যে, একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে। একজন জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কর্মকর্তা এবং একজন স্বাধীন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞের সমন্বয়ে গঠিত এই কমিটি খতিয়ে দেখবে যে, ব্যবহৃত সফটওয়্যারটি প্রচলিত নির্বাচনি আইন ও বিধিমালা অনুসরণ করে কাজ করছে কি না।
পাশাপাশি, ভোটারদের ভোগান্তি কমাতে একটি নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। তথ্যের অমিল বা অসঙ্গতির কারণে যেসব ভোটার চিহ্নিত হয়েছেন, তাদের এখন আর সরকারি অফিসে গিয়ে প্রমাণ দেখাতে হবে না। তার পরিবর্তে স্থানীয় নির্বাচনী কর্মকর্তারা সরাসরি সংশ্লিষ্ট ভোটারদের বাড়িতে গিয়ে প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবেন।




