দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে আজ মঙ্গলবার মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হালনাগাদ তথ্য বলছে, গত কয়েক মাস ধরে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা এবং অন্যান্য বৈশ্বিক কারণে ডলারসহ বিভিন্ন মুদ্রার মান ওঠানামা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় আজ মার্কিন ডলারের বিনিময় হার কিছুটা বেড়ে গড়ে ১২৩ টাকা ৩৫ পয়সায় পৌঁছেছে। তবে খোলাবাজারে এই হার আরও কিছুটা বেশি — কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত হারের চেয়ে প্রায় ১-২ টাকা বেশি দামে ডলার বিক্রি হচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত তালিকা অনুযায়ী, আজ পাউন্ড স্টার্লিং, ভারতীয় রুপি এবং চীনা ইউয়ানের বিপরীতে টাকার মান কমেছে, অর্থাৎ এসব মুদ্রার দাম বেড়েছে। অন্যদিকে ইউরো, জাপানি ইয়েন, অস্ট্রেলীয় ডলার এবং সিঙ্গাপুর ডলারের বিপরীতে টাকার দর বেড়েছে, ফলে এসব মুদ্রার বিনিময় হার কমে দাঁড়িয়েছে।
এই ওঠানামার প্রভাব পড়ছে দেশের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে। পণ্যের আমদানি খরচ থেকে শুরু করে রেমিট্যান্স পাঠানোর খরচ পর্যন্ত সবকিছুই নির্ভর করছে এই বিনিময় হারের ওপর। ব্যবসায়ীদের মতে, বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্থিতিশীলতা না এলে বাণিজ্যিক খরচ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়বে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক অবশ্য বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানিয়েছে। তবে রপ্তানি আয় ও রেমিট্যান্স প্রবাহের ওপর এই দরপতন বা দরবৃদ্ধির দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে সংশয় রয়েছে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট দীর্ঘায়িত হলে জ্বালানি খরচ বাড়তে পারে, যা আবার মুদ্রাবাজারে নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।




