বাংলাদেশের দ্রুত বর্ধনশীল সোশ্যাল কমার্স খাতের মার্চেন্টদের ব্যবসায়িক সক্ষমতা বাড়াতে নতুন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম 'পাঠাও কমার্স' নিয়ে এসেছে পাঠাও। বর্তমানে দেশে প্রায় দুই লাখ মার্চেন্ট এই খাতে সক্রিয়, যারা সামগ্রিক ডিজিটাল কমার্সের ৮০ শতাংশের বেশি নিয়ন্ত্রণ করছেন। বিপুল পরিমাণ অর্ডার, গ্রাহক এবং অপারেশনাল টুলস ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতেই এই সমন্বিত প্ল্যাটফর্মটি তৈরি করা হয়েছে।

পাঠাও কমার্স একটি পূর্ণাঙ্গ ইকোসিস্টেম, যেখানে একজন ব্যবসায়ী তার অনলাইন স্টোরফ্রন্ট তৈরি থেকে শুরু করে ইনভেন্টরি নিয়ন্ত্রণ, পেমেন্ট সংগ্রহ, ডেলিভারি ব্যবস্থাপনা এবং গ্রাহকদের সাথে যোগাযোগ—সবকিছুই একক প্ল্যাটফর্ম থেকে পরিচালনা করতে পারবেন। মূলত ব্যবস্থাপনা, দক্ষতা বৃদ্ধি এবং ব্যবসার প্রসারের কথা মাথায় রেখে এটি ডিজাইন করা হয়েছে, যাতে মার্চেন্টদের ম্যানুয়াল কাজের চাপ কমে এবং তারা ব্যবসায়িক বৃদ্ধিতে বেশি মনোযোগ দিতে পারেন।

প্ল্যাটফর্মটির বিশেষত্ব হলো এর ইন্টিগ্রেশন ক্ষমতা। এটি শপিফাই, উও-কমার্স এবং দারাজের মতো তৃতীয় পক্ষের সেলস চ্যানেলগুলোর সাথে যুক্ত হতে পারে, ফলে ব্যবসায়ীরা তাদের বর্তমান কার্যক্রম সহজেই এখানে স্থানান্তরিত করতে পারবেন। এছাড়া সেলস এবং ইনকাম সংক্রান্ত সব তথ্য এখানে স্বয়ংক্রিয়ভাবে আপডেট হয়, যা ব্যবসায়িক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করে।

গ্রাহক সেবার ক্ষেত্রে পাঠাও কমার্স এক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনছে। আগে মার্চেন্টদের ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম বা হোয়াটসঅ্যাপের মতো বিভিন্ন অ্যাপের মাঝে সুইচ করে অর্ডার নিতে হতো। এখন মেটার অফিশিয়াল ইন্টিগ্রেশনের মাধ্যমে একটি ইউনিফাইড চ্যাট ইনবক্সে সব মেসেজ পাওয়া যাবে। পাঠাও-এর বিশাল অ্যাড্রেস ডেটাবেজ ও এআই সহায়তায় দ্রুত ডেলিভারি তথ্য ইনপুট দেওয়া এবং 'ইনস্ট্যান্ট চেকআউট' লিংকের মাধ্যমে দ্রুত পেমেন্ট সম্পন্ন করার সুযোগ থাকছে। অর্ডার হওয়ার সাথে সাথেই পিকআপ এজেন্ট মার্চেন্টের কাছে পৌঁছে যাবেন এবং গ্রাহক পাবেন ট্র্যাকিং লিংক, যা বারবার খোঁজ নেওয়ার ঝামেলা কমাবে।

ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধির জন্য এখানে অ্যানালিটিকস টুলস এবং কাস্টমাইজযোগ্য স্টোরফ্রন্টের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। খুব শীঘ্রই মেটা ক্যাটালগ ইন্টিগ্রেশনের মাধ্যমে সরাসরি স্পনসর্ড ক্যাম্পেইন চালানোর সুযোগ যুক্ত হবে। এছাড়া 'পাঠাও পে'-র মাধ্যমে দ্রুত পেমেন্ট এবং ট্রাস্ট রেটিং সিস্টেমের ফলে রিটার্নের হার অনেক কমিয়ে আনা সম্ভব হবে। উল্লেখ্য, সাধারণ মার্কেটপ্লেসে যেখানে রিটার্নের হার প্রায় ৩০ শতাংশ, সেখানে এই ট্রাস্ট রেটিং ব্যবস্থা তা এক অঙ্কের ঘরে নামিয়ে আনতে সাহায্য করবে।

পাঠাও-এর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফাহিম আহমেদ জানান, দীর্ঘ সময় ধরে ডেলিভারি সেবায় গ্রাহক ও মার্চেন্টদের আস্থা অর্জনের পর এখন সেই সেবাকে আরও বিস্তৃত করা হচ্ছে। তিনি বলেন, একাধিক আলাদা টুলস ব্যবহারের জটিলতা দূর করে মার্চেন্টদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দেওয়া হচ্ছে, যাতে তারা নিজেদের ব্র্যান্ড হিসেবে গড়ে তুলতে পারেন এবং নতুন সুযোগগুলোকে বড় ব্যবসায় রূপান্তর করতে পারেন।

দেশের শীর্ষ ই-কমার্স লজিস্টিকস প্রোভাইডার থেকে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল কমার্স ইনফ্রাস্ট্রাকচারে রূপান্তরের পথে এই পদক্ষেপকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখছে প্রতিষ্ঠানটি।