বিমা খাতে দুর্নীতি, বিশৃঙ্খলা এবং অনিয়ম অত্যন্ত গভীরে ছড়িয়ে পড়েছে বলে মনে করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সোমবার বীমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) কার্যালয় পরিদর্শনের পর সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এই গুরুতর বিষয়ে মন্তব্য করেন। অর্থমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানান, অনেক কোম্পানি গ্রাহকের পাওনা পরিশোধ না করে জমি ও অন্যান্য সম্পদ কেনায় বিনিয়োগ করেছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রায় ৫৭ শতাংশ বিমা দাবি এখন পর্যন্ত পরিশোধ করা হয়নি। গ্রাহকদের কষ্টার্জিত অর্থের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তিনি নির্দেশ দিয়েছেন যে, নগদ অর্থের সংকট থাকলে কোম্পানিগুলোকে তাদের সম্পদ বিক্রি করে হলেও নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিমা দাবি মেটাতে হবে।

ব্যাংক খাতের মতো বিমা খাতেও এখন তীব্র অব্যবস্থাপনা ও অনিয়ন্ত্রণ লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলে অর্থমন্ত্রী জানান। তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের পর তিনি এই খাতের ভয়াবহ চিত্র দেখতে পেয়েছেন, যার ফলে নিয়ন্ত্রক সংস্থার ভূমিকা আরও শক্তিশালী করা হবে। এই খাতের সংস্কারের লক্ষ্যে বিমা আইন পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং সামনেই এটি সংসদে পেশ করার পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে একটি কার্যকর ‘রেজোল্যুশন’ কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব হয়। এছাড়া ঝুঁকিভিত্তিক তদারকির পাশাপাশি সব কোম্পানিকে স্বয়ংক্রিয় অনলাইন ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। শারীরিক যোগাযোগ কমিয়ে ডিজিটাল লেনদেন বাড়ানোর মাধ্যমে দুর্নীতির সুযোগ কমিয়ে আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

একটি বিশেষ অনিয়মের কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী জানান, কিছু কোম্পানি দুটি আলাদা সার্ভার ব্যবহার করে একটিতে প্রকৃত তথ্য এবং অন্যটিতে ভিন্ন লেনদেনের হিসাব রাখছে। এখন থেকে এই প্রথা নিষিদ্ধ করা হয়েছে এবং নির্ধারিত সময়ের পর কোনো কোম্পানিতে দুটি সার্ভার পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বিমা খাতের সাত থেকে আটটি কোম্পানির বর্তমান অবস্থা অত্যন্ত উদ্বেগজনক বলে তিনি উল্লেখ করেন এবং তাদের দ্রুত সমস্যা সমাধানের নির্দেশ দিয়েছেন। যারা ব্যর্থ হবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে কোম্পানি একীভূতকরণের বিষয়ে এখনই কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।

আইডিআরএ-র সাংগঠনিক দুর্বলতা দূর করতে আগামী তিন থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে ডেপুটেশনে থাকা কর্মকর্তাদের সংখ্যা কমিয়ে নিজস্ব দক্ষ জনবল গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। অর্থমন্ত্রী স্বীকার করেন যে, বিভিন্ন মামলা এবং আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে অনেক সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করা কঠিন হয়ে পড়ছে, যা সমাধানে আইনি ও ব্যবস্থাপনার পরিবর্তন আনা হবে। সবশেষে তিনি বলেন, বিমা খাতের দুর্নীতির শিকড় অনেক গভীরে থাকলেও জনগণের স্বার্থ রক্ষায় এই কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই সামনে এগোতে হবে। পরিদর্শনে অর্থমন্ত্রীর সাথে আইডিআরএ চেয়ারম্যান মীর নাদিয়া নিভিন এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক উপস্থিত ছিলেন।