দীর্ঘ প্রায় ৪৫ দিন ধরে চলা তীব্র গ্যাস সংকটের মুখে অবশেষে সরবরাহে কিছুটা ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। আজ রাত ১০টা থেকে দেশে গ্যাসের সরবরাহ বাড়ানো হয়েছে, যা শিল্পকারখানা এবং বিদ্যুৎ উৎপাদন খাতের জন্য স্বস্তির খবর হতে পারে। এর আগে গ্যাসের স্বল্পতার কারণে লোডশেডিং বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি কলকারখানাগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় চলতে পারছিল না, এমনকি সাধারণ মানুষের রান্নাবান্না ও যাতায়াতেও চরম ভোগান্তি দেখা দিয়েছিল।
পেট্রোবাংলা ও রূপান্তরিত প্রাকৃতিক গ্যাস কোম্পানি লিমিটেড (আরপিজিসিএল)-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট, তবে সাধারণত ২৬৫ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুটের সরবরাহ দিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়। গতকাল এই সরবরাহ কমে ২৩৭ কোটি ঘনফুটে নেমে এসেছিল, যার মধ্যে এলএনজি থেকে পাওয়া গিয়েছিল ৭৫ কোটি ঘনফুট। তবে আজ রাত ১০টা থেকে এলএনজি সরবরাহ বাড়িয়ে ৯৮ কোটি ঘনফুটে উন্নীত করা হয়েছে। দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদিত ১৬২ কোটি ঘনফুটসহ মোট সরবরাহ এখন ২৬০ কোটি ঘনফুটে দাঁড়িয়েছে। সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এলএনজি কার্গোর আগমনে সাময়িক ঘাটতি থাকায় সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হচ্ছিল না, তবে এখন কার্গো নিয়মিত আসতে শুরু করায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সেপ্টেম্বর মাসের জন্য মোট ১০টি এলএনজি কার্গো আমদানির পরিকল্পনা থাকলেও দরপত্র এবং মূল্যবৃদ্ধির কারণে শেষ পর্যন্ত ৯টি কার্গো নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। এর মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের গানভরের দুটি কার্গো দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির আওতায়, আরামকোর দুটি কার্গো স্বল্পমেয়াদি চুক্তির আওতায় এবং বাকি পাঁচটি খোলাবাজার থেকে কেনা হয়েছে। ইতিমধ্যে আরামকো এবং ব্রিটিশ পেট্রোলিয়ামের কার্গো সরবরাহ শেষ হয়েছে এবং সর্বশেষ কোরীয় প্রতিষ্ঠান পস্কোর একটি কার্গো থেকে এলএনজি সরবরাহ করা হয়েছে। আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর গানভর, ১৮ সেপ্টেম্বর আরামকো, ২৩ সেপ্টেম্বর টোটাল এনার্জি, ২৫ সেপ্টেম্বর আরামকো এবং ২৮ সেপ্টেম্বর গানভরের কার্গো পৌঁছানোর কথা রয়েছে। পাশাপাশি অক্টোবরের জন্য ইতোমধ্যে ৬টি কার্গো নিশ্চিত করা হয়েছে এবং আরও ৫টির জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, গত ৯ বছর ধরে দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের উৎপাদন ক্রমাগত হ্রাস পাচ্ছে, যার ফলে ঘাটতি মেটাতে ২০১৮ সাল থেকে এলএনজি আমদানি শুরু হয়। কক্সবাজারের মহেশখালীতে এক্সিলারেট এনার্জি এবং সামিটের দুটি ভাসমান টার্মিনালের মাধ্যমে এই সরবরাহ পরিচালিত হয়। তবে গত ২১ জুলাই এক্সিলারেট এনার্জির টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের ফলে তা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, যা ১৫ আগস্ট পুনরায় চালু হয়। কার্গোর অভাব এবং সরাসরি ক্রয়পদ্ধতিতে (ডিপিএম) কেনা চারটি কার্গো আগস্টে না আসায় সংকটের তীব্রতা বেড়েছিল। এছাড়া কাতারের দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির কার্গোগুলো না আসায় কর্তৃপক্ষ অধিক মূল্যে খোলাবাজার থেকে এলএনজি সংগ্রহ করতে বাধ্য হচ্ছে। গত বছর জুলাই-আগস্টে ২১টি কার্গো আনা হলেও এবার তা কমে ১৫টিতে দাঁড়িয়েছে।




