বাংলাদেশের জনপ্রিয় পর্যটন কেন্দ্র নাফাখুম ও আমিয়াখুম ভ্রমণে গিয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছেন এক নারী পর্যটক। দীর্ঘদিনের ইচ্ছা পূরণ করতে রোজার ঈদে একটি ট্যুর গ্রুপের সঙ্গে বান্দরবানের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন তিনি। শুরুতে সব ঠিক থাকলেও, যাত্রার পর থেকেই শুরু হয় একের পর এক বিপদ ও দুর্ভোগ।
যাত্রী হিসেবে তাঁর অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, সায়েদাবাদ থেকে বান্দরবান হয়ে থানচি ও পদ্মঝিরি পর্যন্ত পৌঁছানো সহজ হলেও আসল সমস্যা শুরু হয় সেখান থেকে। পরিকল্পনা ছিল রেমাক্রি পর্যন্ত ট্রলারে যাওয়ার কথা, কিন্তু তেলের সংকটের অজুহাতে ট্রলার মাঝপথে থামিয়ে দেওয়া হয়। ফলে পর্যটকদের বাধ্য হয়ে অনেক দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে যেতে হয়। বিকেল ৪টার পর খাড়া পাহাড় আর ঝিরিপথ ধরে হাঁটার শুরু হয়। অন্ধকারের মধ্যে ক্লান্ত শরীর নিয়ে দীর্ঘক্ষণ হাঁটার পর রাত সাড়ে ১০টায় তারা পৌঁছান থুনচিপাড়ায়। এই যাত্রায় অনেক বয়োজ্যেষ্ঠ পর্যটক ছিলেন, যারা ট্রেকিংয়ের কষ্ট সম্পর্কে আগে থেকে জানতেন না। ফলে চরম হতাশায় তারা ট্যুর হোস্টের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। জুমঘরে অত্যন্ত সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যে রাত কাটাতে হয় তাঁদেরকে।
পরদিন শরীর অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও প্রবল ইচ্ছাশক্তিতে আমিয়াখুমের উদ্দেশ্যে রওনা হন লেখক। দলের ৩৫ জনের মধ্যে মাত্র ১০ জন এই কঠিন যাত্রায় অংশ নেন। পথে প্রায় ১ হাজার ৯০০ ফুট উচ্চতার খাড়া 'দেবতা পাহাড়' অতিক্রম করা ছিল সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ও ভয়ংকর অভিজ্ঞতা। দড়ির সাহায্যে প্রাণ হাতে নিয়ে নামতে হয় তাঁদেরকে। তবে পাহাড়ের চূড়া থেকে আমিয়াখুমের সৌন্দর্য সব কষ্ট ভুলিয়ে দিয়েছিল সাময়িকভাবে।
কিন্তু ফেরার পথে দুর্ভোগ আরও বাড়ে। রেমকিতে নৌকার জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হয় এবং নেটওয়ার্ক না থাকায় যোগাযোগ করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। অবশেষে সন্ধ্যায় সাঙ্গু নদের তীব্র স্রোত ও বড় বড় পাথরের মাঝ দিয়ে নৌকায় ফিরতে হয়, যেখানে নৌকা প্রায় উল্টে যাওয়ার উপক্রম হয় এবং লেখক প্রায় স্রোতে ভেসে যেতে বসতেন। তিন্দুতে পৌঁছানোর পর হোস্ট জানান যে, দেরি হয়ে যাওয়ায় এখন আর চান্দের গাড়ি পাওয়া যাবে না এবং ঢাকা ফেরার বাস মিস হয়ে গেছে। ফলে নিজেদের খরচে থাকার ও ফেরার কথা বলা হয়, যা পর্যটকদের জন্য চরম অপমানজনক ছিল। অনেক অনুরোধের পর হোস্ট তিন্দুতে থাকার খরচ দিতে রাজি হন।
পরবর্তীতে চকরিয়া হয়ে চট্টগ্রাম হয়ে ভোর ৫টায় ঢাকায় পৌঁছান তিনি। এই অভিজ্ঞতার আলোকে লেখক সতর্ক করেছেন যে, যারা আমিয়াখুম ভ্রমণে যাবেন তারা যেন আগে থেকে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি পর্যটন খাতের সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি, যাতে ভবিষ্যতে অন্য পর্যটকদের এমন ভয়াবহ পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে না হয়।




