বিশ্বের বিভিন্ন দেশের গবেষণানিরত শিক্ষার্থীদের জন্য একটি বড় সুযোগ নিয়ে এল মেটা। প্রযুক্তি জায়ান্টটির রিসার্চ পিএইচডি ফেলোশিপ প্রোগ্রামের আওতায় নির্বাচিত প্রার্থীরা পূর্ণ দুই বছরের জন্য আর্থিক সহায়তা পাবেন, যার মধ্যে রয়েছে সম্পূর্ণ টিউশন ফি, জীবনধারণের খরচ, এবং গবেষণা সংক্রান্ত অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুবিধা। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষের জন্য এই ফেলোশিপের আবেদন প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে, এবং আগ্রহী প্রার্থীদের ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে আবেদন জমা দিতে হবে।

ফেলোশিপটির জন্য মূলত যারা কোনো স্বীকৃত বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ণকালীন পিএইচডি প্রোগ্রামে অধ্যয়নরত, তারা আবেদন করতে পারবেন। আবেদনের জন্য কোনো নির্দিষ্ট বর্ষসীমা নেই; পিএইচডির যেকোনো পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা এই সুযোগ নিতে পারবেন। আবেদনকারীর জাতীয়তা নিয়ে কোনো বাধা নেই, তবে তাদের অবশ্যই এক বা একাধিক চলমান গবেষণা প্রকল্পে যুক্ত থাকতে হবে। উল্লেখ্য, যারা ইতিমধ্যে ফেসবুক বা সংশ্লিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে অন্য কোনো অনুদান পেয়ে থাকেন, তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে এই ফেলোশিপের জন্য অযোগ্য বলে গণ্য হবেন।

নির্বাচিত ফেলোরা কী কী সুবিধা পাবেন, তা নিয়ে মেটা তাদের ওয়েবসাইটে বিস্তারিত তথ্য দিয়েছে। দুই বছরের পূর্ণ টিউশন ফি ও অন্যান্য একাডেমিক খরচ বহন করবে প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি, প্রতি বছর ৪২ হাজার মার্কিন ডলার করে স্টাইপেন্ড দেওয়া হবে। জীবনযাপনের খরচ এবং আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশগ্রহণের ব্যয়ও বহন করা হবে। আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, ফেলোরা মেটার বার্ষিক ফেলোশিপ সামিটে যোগ দেওয়ার সুযোগ পাবেন এবং সেখানে প্রতিষ্ঠানটির গবেষকদের সঙ্গে সরাসরি কাজ ও মতবিনিময়ের সুযোগ তৈরি হবে।

আবেদন মূল্যায়নের ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে গবেষণা প্রস্তাবের মান, গবেষণার সম্ভাব্য প্রভাব এবং সুপারিশপত্রের ওপর। ফেলোশিপ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দুটি সুপারিশপত্র জমা না দিলে আবেদনটি বিবেচনার জন্য গ্রহণ করা হবে না। সুপারিশপত্র জমার শেষ তারিখ ৬ অক্টোবর ২০২৬, আর আবেদন মূল্যায়ন প্রক্রিয়া শুরু হবে ১১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে।

সময়সূচি অনুযায়ী, আবেদন শুরু হয়েছে ৩ আগস্ট ২০২৬ থেকে। ইতিমধ্যে অনেক শিক্ষার্থী আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। যারা এই ফেলোশিপের জন্য আবেদন করতে চান, তাদের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, নির্ধারিত তারিখের পরে কোনো আবেদন গ্রহণ করা হবে না। এটি মূলত গবেষণা ক্ষেত্রে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহী পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জন্য একটি অসাধারণ প্ল্যাটফর্ম হতে পারে, যেখানে আর্থিক সহায়তার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা পরিবেশে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন সম্ভব।