যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত ডাকযোগে ভোটদান সংক্রান্ত ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক বিধিনিষেধের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে। এই নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো সেই বিধিনিষেধ স্থগিত করা হলো। বিচারক তার রায়ে উল্লেখ করেছেন যে, গণতান্ত্রিক শাসিত রাজ্যগুলোর অভিযোগ যে ইউনাইটেড স্টেটস পোস্টাল সার্ভিসের (ইউএসপিএস) নতুন নিয়মগুলো সংবিধানের পরিপন্থী — সেই যুক্তিতে তারা সম্ভবত সফল হবে।

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ভোটারদের অধিকার সুরক্ষার বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রশাসনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে, ডাকযোগে ভোটের মাধ্যমে জালিয়াতির ঝুঁকি রয়েছে, তাই কঠোর নিয়ম প্রয়োজন। কিন্তু বিচারক মনে করছেন, এই নিয়মগুলো বৈধ নয় এবং এর ফলে অনেক ভোটার বঞ্চিত হতে পারেন।

গত কয়েক মাস ধরেই ডাকযোগে ভোটের পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব চলছে। রিপাবলিকান ও ডেমোক্র্যাট শিবিরের মধ্যে এ নিয়ে তীব্র মতানৈক্য রয়েছে। ডেমোক্র্যাটরা মনে করে, এই বিধিনিষেধ মূলত নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর ভোটারদের দমন করার চেষ্টা। অন্যদিকে, রিপাবলিকানরা যুক্তি দিচ্ছে, নির্বাচনের সততা রক্ষার জন্যই এই ব্যবস্থা।

সর্বশেষ আদালতের নির্দেশে বলা হয়েছে, নিয়মগুলো কার্যকর করা যাবে না যতক্ষণ না মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়। এই রায়ের ফলে আগামী নির্বাচনে ডাকযোগে ভোট প্রদানের প্রক্রিয়া অপরিবর্তিত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আদালতের এই সিদ্ধান্তে স্বস্তি প্রকাশ করেছে ভোটাধিকার সংগঠনগুলো।

এদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা আদালতের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চতর আদালতে আপিল করবে। তবে আইন বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই মামলাটি শেষ পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত গড়াতে পারে। তখনই এর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হবে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই রায়ের প্রভাব আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে পড়তে পারে। অনেক রাজ্যেই ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ বাড়ানোর পক্ষে আন্দোলন চলছে। আদালতের এই অবস্থান সেই আন্দোলনকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে কবে নাগাদ চূড়ান্ত রায় আসবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।