প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বহনকারী হেলিকপ্টার 'মেরিন ওয়ান' এবং একটি বাণিজ্যিক বিমানের মধ্যে সম্প্রতি যে বিপজ্জনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তার নেপথ্যে হোয়াইট হাউসের চলমান নির্মাণকাজ দায়ী হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (NTSB)-এর বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এক প্রাথমিক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হোয়াইট হাউসের দক্ষিণ লনে একটি নতুন হেলিপ্যাড স্থাপন এবং একটি বিশাল বলরুম তৈরির কাজ চলছে। এই নির্মাণকাজের কারণে মেরিন ওয়ান সাধারণত ব্যবহৃত দক্ষিণ লনের পরিবর্তে 'দ্য এলিপস' নামক স্থান থেকে উড্ডয়ন করছে। ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (FAA) কারিগরি বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এলিপস এবং রেডিও ট্রান্সমিটার/রিসিভারের মধ্যে দৃশ্যমানতা পর্যাপ্ত না হওয়ায় যোগাযোগের ক্ষেত্রে বড় ধরনের সমস্যা দেখা দিয়েছে।

ঘটনার সময় মেরিন ওয়ান থেকে রিগান ওয়াশিংটন ন্যাশনাল এয়ারপোর্টের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারদের দুইবার সতর্ক সংকেত পাঠানোর চেষ্টা করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী, আকাশপথ পরিষ্কার করার জন্য উড্ডয়নের তিন মিনিট আগে এই সতর্কবার্তা দেওয়া হয়। তবে দেখা গেছে, একটি বার্তা কন্ট্রোল টাওয়ারে পৌঁছায়নি এবং অন্যটি ছিল অস্পষ্ট ও সম্পূর্ণ অপাঠ্য। সতর্কবার্তা না পাওয়ায় কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে একটি বাণিজ্যিক বিমানকে উড্ডয়নের অনুমতি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে মেরিন ওয়ান উচ্চতা বাড়ানোর পর কন্ট্রোল টাওয়ারকে সতর্ক করতে সক্ষম হয়।

এর ফলে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের হেলিকপ্টারটি ওই যাত্রীবিরিমান থেকে আনুভূমিকভাবে মাত্র ০.৮২ মাইল এবং উল্লম্বভাবে প্রায় ৭০০ ফুট দূরত্বে চলে আসে। উল্লেখ্য, এফএএ-র নিয়ম অনুযায়ী 'ক্লাস বি' আকাশপথে বিমানগুলোর মধ্যে অন্তত ১.৭২ মাইল আনুভূমিক অথবা ৫০০ ফুট উল্লম্ব দূরত্ব বজায় রাখা বাধ্যতামূলক। তবে এফএএ আগেই নিশ্চিত করেছে যে, এই ঘটনায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কোনো শারীরিক ঝুঁকির মুখে পড়েননি।

তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ঘটনার এক সপ্তাহ আগেই মেরিন ওয়ানের ক্রু সদস্যরা রিগান ওয়াশিংটন ন্যাশনাল এয়ারপোর্টের কন্ট্রোলারদের জানিয়েছিলেন যে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন বা অস্থিতিশীল হয়ে পড়ছে। বর্তমানে হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের জন্য ৬০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে একটি বলরুম এবং গ্রানাইট প্যাডযুক্ত নতুন হেলিপ্যাড তৈরি করা হচ্ছে, যা নতুন ভিএইচ-৯২এ প্যাট্রিয়ট মেরিন ওয়ান হেলিকপ্টারের তীব্র তাপ সহ্য করতে পারবে।

এই ঘটনাটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক হিসেবে দেখা হচ্ছে, কারণ ২০২৫ সালে রিগান ওয়াশিংটন ন্যাশনাল এয়ারপোর্টেই আমেরিকান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট ৫৩৪২ এবং মার্কিন সেনাবাহিনীর একটি ব্ল্যাক হক হেলিকপ্টারের সংঘর্ষে ৬৭ জনের মৃত্যু হয়েছিল। ওই দুর্ঘটনার পর ডিসি আকাশপথে বাণিজ্যিক ও সামরিক হেলিকপ্টারের চলাচল নিয়ে কঠোর নতুন নিয়ম জারি করা হয়েছিল। এনটিএসবি জানিয়েছে তাদের তদন্ত এখনও চলছে এবং এখন পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট কারো বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থার ঘোষণা দেওয়া হয়নি।