ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) নির্ধারিত ফি ১০০ টাকা হলেও মাঠপর্যায়ে সেই নিয়ম মানা হচ্ছে না। রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় বাসাবাড়ি থেকে ময়লা তোলার বিল হিসেবে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত আদায় করা হচ্ছে। আবার কোথাও নিয়মিত ময়লা সংগ্রহ হচ্ছে না বলেও অভিযোগ উঠেছে।

ধানমন্ডি এলাকার বাসিন্দা লামিয়া আক্তারের বাসায় প্রতি মাসে ১২০ টাকার রসিদ আসে, কিন্তু তাঁকে দিতে হয় ১৭০ টাকা। অতিরিক্ত ৫০ টাকার কোনো রসিদ দেওয়া হয় না। একই এলাকার আরেক বাসিন্দা জানান, প্রতি বাসা থেকে ১৬০ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। যাত্রাবাড়ীর মীর হাজীরবাগ এলাকার আরভীন সোনিয়া বলেন, এখনো প্রতি মাসে ২০০ টাকা দিতে হচ্ছে, অথচ দু-তিন দিন পরপর ময়লা তোলা হয়। পুরান ঢাকার কায়েতটুলীর বাসিন্দা মাহমুদুল হাসানের ভাষ্য, সপ্তাহে মাত্র এক থেকে দুই দিন ময়লা নেওয়া হয়, ফলে তাঁরা নিজেরাই ময়লা নির্দিষ্ট স্থানে রেখে আসছেন। ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের সেন্ট্রাল রোড এলাকার এক ভবনে প্রতি ফ্ল্যাট থেকে ২০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে।

গত মে মাসে প্রথম আলোয় প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে ময়লা বাণিজ্যের চিত্র উঠে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম সতর্ক করে বলেন, ১০০ টাকার বেশি নেওয়া হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স বাতিল করা হবে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো লাইসেন্স বাতিলের খবর নেই। গত ৪ জুন ডিএসসিসি সচিবের সই করা আদেশে আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাদের তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়। তাদের সাত দিন পরপর প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সেই প্রতিবেদন নিয়মিত জমা পড়ছে না। ফলে কোন ওয়ার্ডে কত টাকা নেওয়া হচ্ছে, কোথায় নিয়মিত ময়লা তোলা হচ্ছে না—এসব তথ্য কেন্দ্রীয়ভাবে জানা যাচ্ছে না।

ধানমন্ডি এলাকা ডিএসসিসির অঞ্চল-১-এর আওতায়। এই অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মুহা. মাছুম বিল্লাহ বলেন, তিনি নতুন যোগ দিয়েছেন এবং তদারকির বিষয়টি তিনি জানেন না। অন্যদিকে যাত্রাবাড়ীসহ অঞ্চল-৫-এর আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা আক্তার উননেছা শিউলী বলেন, তাঁদের কাছে কোনো অভিযোগ আসেনি, ওয়ার্ড পর্যায়ে দল গঠন করা হয়েছে।

নগর-পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খান বলেন, রসিদের বাইরে টাকা নেওয়া চাঁদাবাজির শামিল। কর্মকর্তারা যদি প্রতিবেদন না দেন, তাহলে তারা অনিয়মে সুযোগ দিচ্ছেন। এই ব্যর্থতার দায় মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, শুধু অফিস আদেশে এই অনিয়ম বন্ধ হবে না; ওয়ার্ডভিত্তিক ঠিকাদারদের তালিকা, নির্ধারিত ফি, অভিযোগ জানানোর নম্বর প্রকাশ করতে হবে।

তবে সব জায়গায় একই চিত্র নেই। ৭১ নম্বর ওয়ার্ডের মান্ডা এলাকার বাসিন্দা শফিকুল ইসলাম জানান, আগে ১২০ টাকা নেওয়া হতো, কিন্তু গত ঈদুল আজহার পর থেকে ১০০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। অর্থাৎ কর্তৃপক্ষ চাইলে নির্ধারিত ফি কার্যকর করা সম্ভব।

এদিকে ডিএসসিসি প্রশাসক আবদুস সালাম জানান, নির্ধারিত টাকার বেশি নেওয়ার অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কর্মকর্তাদের গাফিলতি থাকলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।