চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের চার শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের আটলান্টার এক আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে যাচ্ছেন। আমেরিকান কংক্রিট ইনস্টিটিউট (এসিআই) আয়োজিত ‘এসিআই মর্টার ওয়ার্কেবিলিটি কমপিটিশন ২০২৬’-এর মূল পর্ব আগামী ১১ থেকে ১৪ অক্টোবর পর্যন্ত আটলান্টার একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে কঠোর প্রতিযোগিতার মধ্য দিয়ে বাছাইপর্বের সেরা ৪০টি দলের একটি হিসেবে জায়গা করে নিয়েছেন এই শিক্ষার্থীরা।

যুক্তরাষ্ট্রে যাত্রা করতে যাওয়া এই দলের সদস্য হলেন খন্দকার ফাহাদ আলম, সুমাইয়া বিনতে মান্নান, তানজিম মুশাররাত তুশিন এবং স্বরূপ চন্দ্র মোদক। তাঁদের এই সাফল্যে বিশেষ অবদান রেখেছেন একই বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সানিউল হক, রূপম পোদ্দার, আমীর হামজা মাহমুদ এবং তৃতীয় বর্ষের মো. সাইজউদ্দিন ফরহাদ। তবে এই সহযোগীরা যুক্তরাষ্ট্রে না গিয়ে দেশ থেকেই মূল দলের সহায়তা করবেন। পুরো দলের দিক-নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে রয়েছেন চুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক এবং এসিআই স্টুডেন্ট চ্যাপটার চুয়েট শাখার অনুষদ উপদেষ্টা জি এম সাদিকুল ইসলাম।

মূলত নির্মাণকাজে ব্যবহৃত সিমেন্ট, বালু ও পানির ঘন মিশ্রণকে 'মর্টার' বলা হয়, যা ইট বা কংক্রিটের ব্লকগুলোকে মজবুতভাবে ধরে রাখতে ব্যবহৃত হয়। এই প্রতিযোগিতায় সিমেন্ট, বালু, পানি, অ্যাড মিক্সচার এবং সম্পূরক সিমেন্টের সঠিক অনুপাতে সংমিশ্রণ তৈরি করে তার বৈশিষ্ট্য যাচাই করা হয়। বিশেষ করে মিশ্রণের প্রবাহ ক্ষমতা (flowability) এবং স্থিতিশীলতার (stability) ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়; যার মধ্যে প্রবাহ ক্ষমতার জন্য নির্ধারিত থাকে মোট নম্বরের ৫০ শতাংশ এবং স্থিতিশীলতার জন্য ২০ শতাংশ।

দলের সদস্যরা জানান, স্থিতিশীলতা ও প্রবাহ ক্ষমতার মধ্যে সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখাই ছিল তাদের জন্য প্রধান চ্যালেঞ্জ। এই লক্ষ্য অর্জনে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণাগারে দীর্ঘ সময় ব্যয় করেছেন এবং বিভিন্ন অনুপাতে উপকরণ মিশিয়ে অসংখ্যবার পরীক্ষা চালিয়েছেন। একই সঙ্গে তারা খরচের পরিমাণ কমানো এবং পরিবেশগত প্রভাবের বিষয়গুলোকেও গুরুত্ব দিয়েছেন। দলের সদস্য স্বরূপ চন্দ্র মোদক বলেন, একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি গবেষণাগারে কঠোর পরিশ্রম এবং বারবার পরীক্ষামূলক মিশ্রণ তৈরির ফলে তারা বিশ্বের সেরা ৪০টি দলের মধ্যে স্থান পেয়েছেন, যা তাদের পরিশ্রমকে সার্থক করেছে। এখন তাঁদের মূল লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ভালো ফলাফল করে দেশের সম্মান বাড়ানো।

দলের উপদেষ্টা জি এম সাদিকুল ইসলাম জানান, ২০১৮ সালে চুয়েটে এসিআই স্টুডেন্ট চ্যাপ্টার শাখা প্রতিষ্ঠার পর থেকে তারা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ছয়টি পুরস্কার জিতেছেন, তবে সবগুলোই ছিল অনলাইন ভিত্তিক। এবার সরাসরি প্রতিযোগিতার মূল পর্বে অংশগ্রহণের সুযোগ পাওয়ায় শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত আনন্দিত এবং তিনি বিশ্বাস করেন শিক্ষার্থীরা এবারও ভালো সাফল্য অর্জন করবে। উল্লেখ্য, আমেরিকান কংক্রিট ইনস্টিটিউট (এসিআই) একটি বৈশ্বিক অলাভজনক প্রতিষ্ঠান, যা ১২০টিরও বেশি দেশে ৩৫ হাজার সদস্যের মাধ্যমে কংক্রিট নির্মাণ ও ব্যবহারের মানদণ্ড এবং প্রযুক্তিগত জ্ঞান প্রচার করে থাকে।