ঢাকার একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত ‘সেফগার্ডিং লিডারশিপ সামিট’–এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ জানান, প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাক্রমে বছরজুড়ে ১২টি জীবনঘনিষ্ঠ থিম অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। এই থিমগুলোর মাধ্যমে শিশুরা কেবল পাঠ্যবইয়ের জ্ঞানই অর্জন করবে না, বরং দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন ঝুঁকি মোকাবিলা এবং দায়িত্বশীল আচরণের দক্ষতাও শিখবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

হেইলিবেরি ভালুকা ও কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্ট যৌথভাবে আয়োজিত এই সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ছিল ‘স্ট্রংগার টুগেদার, সেফার টুমরো—কিপিং চিলড্রেন সেফ ইন বাংলাদেশ’। অনুষ্ঠানে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিক্ষাক্রম সংস্কারের অংশ হিসেবে নির্দিষ্ট কোনো মাসে একটি থিমকে গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং সংশ্লিষ্ট মাসের বিভিন্ন বিষয়ের পাঠে সেই থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ উদাহরণ, সংখ্যা, প্রশ্ন ও আলোচনা যুক্ত করা হবে। ফলে শিক্ষার্থীরা বইয়ের পাঠের সঙ্গে বাস্তব জীবনের ঘটনাগুলো সহজেই মিলিয়ে নিতে পারবে।

উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, কোনো মাসে যদি অগ্নিনিরাপত্তা থিম নির্ধারিত হয়, তাহলে গণিত, ভাষা ও অন্যান্য বিষয়ের পাঠেও অগ্নিনিরাপত্তা–সংশ্লিষ্ট উদাহরণ ও আলোচনা সংযুক্ত করা যেতে পারে। একইভাবে সড়ক নিরাপত্তা, পানিতে নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য ও পরিচ্ছন্নতা, দুর্যোগ মোকাবিলাসহ শিশুদের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয় পর্যায়ক্রমে গুরুত্ব পাবে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে খেলাধুলা ও সংস্কৃতিসহ চারটি নতুন বই যুক্ত হওয়ার কথাও জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, প্রধানমন্ত্রীর ভিশন অনুযায়ী এমন একটি প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ চলছে, যেখানে প্রতিটি শিশু নিরাপদ পরিবেশে বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকবে এবং শ্রেণিকক্ষে কার্যকরভাবে শিখতে পারবে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে শিক্ষার্থীর শারীরিক ও মানসিক নিরাপত্তার পাশাপাশি জীবনদক্ষতা শিক্ষাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। দেশের সব প্রাথমিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ন্যূনতম নিরাপত্তা ও শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে সরকার একটি নীতিমালা প্রণয়নের কাজ করছে বলেও জানান তিনি।

সম্মেলনের শুরুতে বক্তব্য দেন কেমব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস অ্যান্ড অ্যাসেসমেন্টের কান্ট্রি লিড সারওয়াত রেজা। তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের উৎকর্ষের ধারণাকে একাডেমিক ফলাফলের বাইরে সম্প্রসারিত করে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও সুস্থতার সঙ্গে যুক্ত করা অত্যন্ত জরুরি। হেইলিবারি ভালুকার ফাউন্ডিং হেডমাস্টার সাইমন ও’ গ্রেডি তাঁর বক্তব্যে শিশুদের ওপর শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্ষতিকর শৃঙ্খলাবিধান, মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থী ঝরে পড়া, অভিযোগ না জানানোর প্রবণতা এবং কর্তৃত্বকে প্রশ্ন করার ক্ষেত্রে সাংস্কৃতিক প্রতিবন্ধকতার মতো বিষয়গুলো তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এস এম এ ফায়েজসহ শিক্ষা–সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।

পরে মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। সম্মেলনে শিক্ষাক্রমে জীবনদক্ষতা সংযোজনের পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিভিন্ন দিক নিয়েও আলোচনা হয়।