যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে ডেমোক্র্যাটদের বিশাল জয় এবং ক্ষমতার প্রত্যাবর্তনে উৎসবের আমেজ থাকলেও, ওয়াল স্ট্রিটের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে কিছুটা অস্বস্তি বিরাজ করছে। বিশেষ করে সেনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেনের মতো প্রভাবশালী নেতাদের আর্থিক খাতের প্রতি প্রকাশ্য কঠোর মনোভাব জেপি মরগান, গোল্ডম্যান স্যাকস এবং মরগান স্ট্যানলির মতো জায়ান্ট ব্যাংকগুলোর জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে আইনি বিশেষজ্ঞ ও বাজার বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি খুব বেশিদূর গড়াবে না এবং আপাতত এটি কেবল 'রাজনৈতিক প্রদর্শনী' বা পাবলিক শেমিং-এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে।

নতুন রাজনৈতিক ব্যবস্থার প্রভাব ইতিমধ্যেই দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। সিএনবিসি-র এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রয়াত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টাইনের সাথে জেপি মরগানের সম্পর্কের বিষয়ে তদন্ত করার প্রস্তুতি নিচ্ছে সেনেট ডেমোক্র্যাটরা। এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে জেপি মরগান কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। অন্যদিকে, সেনেট ফাইন্যান্স কমিটির সম্ভাব্য চেয়ারম্যান রন ওয়াইডেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ কেবল একটি শব্দ লিখে সতর্কবার্তা দিয়েছেন— 'সাবপিনা' (আদালতের তলব)।

আইন সংস্থা ক্লার্ক হিলের আর্থিক পরিষেবা নিয়ন্ত্রক ও কমপ্লায়েন্স প্রধান জোয়ান নিডলম্যান মনে করেন, সামনের দিনগুলোতে প্রচুর রাজনৈতিক নাটকীয়তা দেখা যাবে। এর মধ্যে থাকতে পারে বড় ব্যাংকগুলোর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের তলব, তদন্ত, শুনানির আয়োজন এবং জবাবদিহিতার জন্য কঠোর ভাষায় চিঠি প্রদান। তিনি আরও জানান, শক্তিশালী সেনেট ব্যাংকিং কমিটির নতুন প্রধান হতে যাওয়া এলিজাবেথ ওয়ারেন বড় ব্যাংকগুলোর বিলিয়ন ডলার মুনাফা এবং গ্রাহকদের ওপর চাপানো অতিরিক্ত চার্জ নিয়ে কঠোর প্রশ্ন তুলবেন এবং তাদের জনসমক্ষে বিব্রত করবেন। উল্লেখ্য, ওয়ারেন এর আগেও প্রাইভেট ইকুইটি শিল্পকে 'আইনি লুটতরাজ' হিসেবে অভিহিত করেছেন এবং ব্যাংক নির্বাহীদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক তদন্তের দাবি জানিয়েছিলেন।

তবে ওয়াল স্ট্রিটের অভিজ্ঞ পর্যবেক্ষকদের মতে, এই ধরনের তদন্ত বা শুনানি মার্কিন রাজনীতিতে নতুন কিছু নয়। ওয়েলস ফার্গোর বড় ব্যাংক গবেষণা প্রধান মাইক মায়ো বলেন, নির্বাচিত প্রতিনিধিরা তাদের ম্যান্ডেট অনুযায়ী কাজ করবেন, যা প্রত্যাশিত। তবে মাহোনি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের সিইও কেন মাহোনি মনে করেন, কঠোর ভাষা বা বেশি শুনানির মানেই এই নয় যে ব্যাংকগুলোর দৈনন্দিন কার্যক্রমে বড় কোনো বিপর্যয় আসবে। রাজনৈতিক বক্তব্যকে কার্যকর আইনে রূপান্তর করা সম্পূর্ণ ভিন্ন এবং কঠিন একটি চ্যালেঞ্জ।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভেটো ক্ষমতা এবং এফডিআইসি (FDIC) ও অফিস অফ দ্য কন্ট্রোলার অফ দ্য কারেন্সি-র মতো নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোতে ট্রাম্প-নিযুক্ত নেতৃত্বের উপস্থিতি ব্যাংকগুলোকে সুরক্ষা দেবে। কংগ্রেসের সংখ্যাগরিষ্ঠতা বদলালেও প্রশাসনের মূল এজেন্ডা সহজে পরিবর্তন হবে না। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে বড় ব্যাংকগুলো ইতিমধ্যেই অনেক সুবিধা পেয়েছে, যেমন মার্জার পলিসির শিথিলতা এবং মূলধন সংক্রান্ত বিধিনিষেধের হ্রাস।

সিটি অ্যানালিস্ট বেন গারলিঙ্গার এই মতের সাথে একমত হয়ে বলেন, ডেমোক্র্যাটরা ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষকে তলব করতে পারলেও নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সহযোগিতা ছাড়া ব্যাংকগুলোর মূল ব্যবসায়িক মডেলে বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব নয়। শেষ পর্যন্ত ব্যাংকের মুনাফা এবং মূলধনের স্থিতিশীলতাই হবে তাদের মূল চালিকাশক্তি। যদি ভবিষ্যতে ট্রাম্পের মেয়াদ শেষ হয় এবং নতুন নিয়ন্ত্রক নিয়োগ পায়, তবেই পরিস্থিতির প্রকৃত পরিবর্তন হতে পারে, যা বর্তমান সময়ের বাস্তবতা নয়।