দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্কের টানাপোড়েন দিন দিন আরও গভীর হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রশাসন কানাডার একাধিক পণ্যের বিরুদ্ধে আমদানি নিষেধাজ্ঞা জারির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ঘোষণা অনুযায়ী, মোটরসাইকেল, অ্যালকোহল এবং দুগ্ধজাত পণ্যসহ বিভিন্ন ধরনের কানাডিয়ান পণ্য এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে।

বুধবার প্রকাশিত এক সরকারি আদেশে বলা হয়েছে, আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর থেকে এসব পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হবে। এর ফলে কানাডার এসব পণ্য মার্কিন বাজারে প্রবেশ করতে পারবে না। ধারণা করা হচ্ছে, বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর কৌশল হিসেবে এই পদক্ষেপ নিয়েছে ওয়াশিংটন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এমন পদক্ষেপ দুই দেশের মধ্যে চলমান বাণিজ্য যুদ্ধকে আরও ঘনীভূত করবে।

মার্কিন সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে কানাডার মোটরসাইকেল শিল্প, অ্যালকোহল উৎপাদক এবং দুগ্ধ খাত মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে কানাডার দুগ্ধ শিল্প দীর্ঘদিন ধরেই মার্কিন বাজারের ওপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হলে সেখানে উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অন্যদিকে, এই ঘোষণাকে 'অযৌক্তিক' ও 'ক্ষতিকর' বলে বর্ণনা করেছে কানাডার ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো। তারা বলছে, এর ফলে দুই দেশের মধ্যকার বাণিজ্য সম্পর্কের ভিত্তি আরও দুর্বল হবে। পাশাপাশি, ভোক্তাদের কাছেও এর নেতিবাচক প্রভাব পৌঁছাবে, কারণ এসব পণ্যের বিকল্প খুঁজতে গিয়ে দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এখন পর্যন্ত কানাডার সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে এই নিষেধাজ্ঞার জবাব দেয়নি। তবে পূর্ববর্তী ঘটনাপ্রবাহ থেকে এটা স্পষ্ট যে, তারা হয়তো পাল্টা ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। বিশ্লেষকদের মতে, দুই দেশের মধ্যে এই বাণিজ্যিক দ্বন্দ্ব উত্তর আমেরিকার সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলতে পারে। আগামী দিনে এই পরিস্থিতি কীভাবে গড়ায়, সেদিকে নজর থাকবে বিশ্ব বাণিজ্য মহলের।