যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজার বর্তমানে অস্থির পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেলেও, সেখানে বড় ধরনের বিনিয়োগের পরিকল্পনা নিয়েছে বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ে। ১ জানুয়ারি থেকে ওয়ারেন বাফেটের স্থলাভিষিক্ত সিইও গ্রেগ অ্যাবেলের নেতৃত্বে কোম্পানিটি হোমবিল্ডিং খাতে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হলো দেশটির ষষ্ঠ বৃহত্তম হোমবিল্ডার 'টেলর মরিসন' অধিগ্রহণ। মে মাসের শেষের দিকে এই চুক্তিতে রাজি হওয়া বার্কশায়ার ইকুইটির জন্য ৬.৮ বিলিয়ন ডলার এবং ঋণের বোঝা মিলিয়ে মোট ৮.৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে, যার চূড়ান্ত প্রক্রিয়া জুলাই মাসে সম্পন্ন হয়।

পাশাপাশি, জুলাই মাসের শুরুতে বার্কশায়ারের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান ক্লেটন প্রপার্টিজ গ্রুপের অধীনস্থ মুঙ্গো হোমস দক্ষিণ ক্যারোলিনার বিল্ডার ম্যাকগুইন হোমসকে অধিগ্রহণ করে। এছাড়া তৃতীয় প্রান্তিকে আমেরিকার দ্বিতীয় বৃহত্তম হোমবিল্ডার লেনার-এর শেয়ারে নিজেদের বিনিয়োগ প্রায় দ্বিগুণ করেছে কোম্পানিটি। হাউজিং রিসার্চ ফার্ম রেসিক্লাবের তথ্যমতে, দ্বিতীয় প্রান্তিকে ৩০ শতাংশ বৃদ্ধির পর তৃতীয় প্রান্তিকে এই বিনিয়োগ আরও ৯৪ শতাংশ বাড়ানো হয়েছে। এসইসি-র নথিপত্র অনুযায়ী, বর্তমানে লেনার-এর প্রায় ১১ শতাংশ শেয়ারের মালিক বার্কশায়ার।

সিএনবিসি-র 'স্কোয়াক বক্স' অনুষ্ঠানে গ্রেগ অ্যাবেল জানান, টেলর মরিসন অধিগ্রহণের পেছনে রয়েছে মার্কিন আবাসন বাজারের প্রতি তাদের দীর্ঘমেয়াদী দৃষ্টিভঙ্গি। তিনি বিশ্বাস করেন, 'আমেরিকান ড্রিম' বা নিজের বাড়ি থাকার স্বপ্ন সবসময়ই থাকবে এবং আগামী ৫ থেকে ১০ বছরের মধ্যে এই বিনিয়োগ বার্কশায়ারের জন্য একটি শক্তিশালী সম্পদে পরিণত হবে।

তবে স্বল্পমেয়াদে এই বিনিয়োগ বেশ ঝুঁকিপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। রেসিক্লাবের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৪ সালের অক্টোবরের সর্বোচ্চ পর্যায়ের তুলনায় তৃতীয় প্রান্তকের শেষে লেনার-এর শেয়ারের দাম ৪৯.৭ শতাংশ কমেছে। ২০১৯ সালের শেষ থেকে এই শেয়ারের বৃদ্ধি মাত্র ৪৪.২ শতাংশ, যা এসঅ্যান্ডপি ৫০০-এর ১৩৮.৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধির তুলনায় অনেক কম। এছাড়া ডি.আর. হর্টন বা পুলগ্রুপের মতো প্রতিযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো এই সময়ে ১৫০ শতাংশের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। বিক্রয় ধরে রাখতে লেনার তাদের পণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছে, যার ফলে তাদের মুনাফায় টান পড়েছে। ২০২৯ সালের পর থেকে তাদের তৃতীয় প্রান্তিকের গ্রস মার্জিন সবচেয়ে দুর্বল পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং নিট আয় এক বছরের ব্যবধানে ৫৯১ মিলিয়ন ডলার থেকে কমে ২৮৪ মিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে।

মহামারী পরবর্তী সময়ে আবাসন বাজারে চাহিদাও কমেছে এবং বন্ধকী ঋণের সুদের হার বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের জন্য বাড়ি কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফ্রেডি ম্যাক-এর তথ্যমতে, অক্টোবর ১ তারিখ নাগাদ ৩০ বছরের ফিক্সড রেট ৭.২৮ শতাংশে পৌঁছেছে। গ্রেগ অ্যাবেল এই পরিস্থিতি স্বীকার করে বলেছেন, আগামী কিছু সময় পথটি বন্ধুর হতে পারে এবং দ্রুত পুনরুদ্ধারের সম্ভাবনা কম। তবে দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্য সামনে রেখেই তারা এই খাতে বিনিয়োগ চালিয়ে যেতে চান। বর্তমানে টেলর মরিসন এবং ক্লেটন প্রপার্টিজের সমন্বয়ে বার্কশায়ার যুক্তরাষ্ট্রের চতুর্থ বৃহত্তম সাইট-বিল্ট হোমবিল্ডারে পরিণত হয়েছে।