আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে মদনপুর আলোর পাঠশালায় বর্ণাঢ্য আয়োজনের মাধ্যমে দিনটি পালিত হয়েছে। এবারের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে 'মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা'। দিবসটি উপলক্ষে ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই বিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা একটি র্যালি বের করেন, যা বিদ্যালয়ের আশপাশের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র্যালিটি শেষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়, যেখানে প্রধান শিক্ষকসহ অন্যান্য শিক্ষকেরা বক্তব্য রাখেন।
বক্তব্যে শিক্ষকেরা জোর দিয়ে বলেন, কোনো জাতির আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান তৈরিতে শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর ভূমিকা সর্বাগ্রে। তারা উল্লেখ করেন, বিশ্বের বহু দেশে সাক্ষরতার হার প্রায় শতভাগ, যা তাদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও সামাজিক অগ্রগতির মূল চালিকাশক্তি। অন্যদিকে বাংলাদেশের পরিস্থিতি তুলে ধরে তারা বলেন, সরকারি হিসাব অনুযায়ী দেশের প্রায় ২৩ শতাংশ মানুষ এখনো মৌলিক সাক্ষরতা থেকে বঞ্চিত। এই অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য শিক্ষকেরা নারীশিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন।
এ প্রসঙ্গে ফরাসি সম্রাট নেপোলিয়নের বিখ্যাত উক্তিটি স্মরণ করিয়ে দেন তারা—'তুমি আমাকে একটি শিক্ষিত মা দাও, আমি তোমাকে একটি শিক্ষিত জাতি দেব'। বক্তারা মনে করেন, নারী সমাজকে শিক্ষিত করতে পারলে দ্রুত নিরক্ষরতার অভিশাপ থেকে মুক্তি মিলবে এবং দেশের সার্বিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। আলোচনায় আরও বলা হয়, শুধু সরকার বা প্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভর করে চললে লক্ষ্য অর্জন সম্ভব নয়; বরং প্রতিটি নাগরিকের নিজ নিজ অবস্থান থেকে উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
উপস্থিত শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়, তারা যেন নিজ পরিবারের কিংবা আশপাশের যে কেউ অক্ষরজ্ঞানহীন তাকে স্বাক্ষরতার আলো দিতে এগিয়ে আসেন। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ অচিরেই নিরক্ষরতামুক্ত হয়ে বিশ্বসভায় মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়। অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা ছাড়াও স্থানীয় অভিভাবকেরা অংশগ্রহণ করেন।



