আমেরিকার তরুণ ও শিক্ষার্থীদের কাছে মাছ ধরা এখন আর কেবল শখ নয়, বরং উচ্চশিক্ষার সুযোগ এবং বড় অংকের অর্থ উপার্জনের এক মাধ্যম হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে হাইস্কুল ও কলেজ শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত 'বাস' (bass fish) নামক মাছ ধরার প্রতিযোগিতার জনপ্রিয়তা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। সম্প্রতি টেনেসির প্যারিস ল্যান্ডিং স্টেট পার্কে অনুষ্ঠিত একটি জাতীয় পর্যায়ের টুর্নামেন্টে ২১৩টি দলের মধ্যে চ্যাম্পিয়ন হয়েছেন আলাবামার ১৮ বছর বয়সী কেইজ ব্র্যাগ। ১১ পাউন্ড ৩ আউন্সের তিনটি মাছ ধরে তিনি জিতে নিয়েছেন ২৫ হাজার ডলার মূল্যের একটি মাছ ধরার নৌকা এবং কলেজে পড়াশোনার জন্য ৫ হাজার ডলারের স্কলারশিপ। কেইজ জানিয়েছেন, তিনি পড়াশোনার চেয়ে পেশাদার মাছ শিকারি হিসেবেই ক্যারিয়ার গড়তে বেশি আগ্রহী।
গত এক দশকে এই বিশেষ খেলার জনপ্রিয়তা দ্বিগুণ হয়েছে। 'বাস নেশন' নামক সংস্থার সদস্য সংখ্যা ৬ হাজার থেকে বেড়ে এখন ১২ হাজারে দাঁড়িয়েছে। একসময় ১২টি অঙ্গরাজ্যের ৬০০টি ক্লাবে সীমাবদ্ধ এই আয়োজন এখন ৩৫টি অঙ্গরাজ্যের ১ হাজার ১০০টি হাইস্কুল ও যুব ক্লাবে ছড়িয়ে পড়েছে। এমনকি অন্তত ৮টি অঙ্গরাজ্যে মাছ ধরাকে এখন স্কুলের আনুষ্ঠানিক খেলার মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। 'মেjor লিগ ফিশিং'-এর মতো বড় প্রতিষ্ঠানের তত্ত্বাবধানে এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়, যেখানে এখন দলের জার্সি, র্যালি এবং পুরস্কার বিতরণীর মতো পেশাদার সব ব্যবস্থা থাকে।
তবে এই প্রতিযোগিতায় সফল হতে হলে প্রচুর অর্থ বিনিয়োগ করতে হয়। একটি উন্নত মানের 'বাস বোট'-এর দাম ১ লাখ ডলার পর্যন্ত হতে পারে। এছাড়া ফিশ ফাইন্ডার এবং উন্নত মানের ছিপের মতো ডিজিটাল যন্ত্রপাতির পেছনে অভিভাবকদের বড় অঙ্কের খরচ বহন করতে হয়। এমনকি কেবল অনুশীলনের জন্যই প্রতি মৌসুমে একজন শিক্ষার্থীর প্রায় ১ হাজার ডলার খরচ হয়। যেহেতু স্কুলগুলো নিরাপত্তা ও রক্ষণাবেক্ষণের ঝুঁকি নিতে চায় না, তাই এই দলগুলো সরকারি অনুদান ছাড়াই ক্লাব হিসেবে পরিচালিত হয়। প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করতে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন কোম্পানির স্পনসরশিপের ওপর নির্ভর করতে হয়।
প্রতিযোগিতার নিয়ম অনুযায়ী, এক বা দুই সদস্যের দলগুলো সর্বোচ্চ তিনটি মাছ ধরতে পারে, যার প্রতিটি অন্তত ১৫ ইঞ্চি লম্বা হতে হবে। মাছগুলোকে জীবিত অবস্থায় ওজন করার পর পুনরায় হ্রদে ছেড়ে দিতে হয়। বর্তমানে প্রায় ৬০০টি কলেজে মাছ ধরার আলাদা প্রোগ্রাম রয়েছে। ২০০৯ সালে টেনেসির বেথেল ইউনিভার্সিটি প্রথম এই খাতের জন্য স্কলারশিপ চালু করে।
বর্তমানে এই খেলায় আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডের প্রবেশ ঘটেছে এবং টিভি ও ইন্টারনেটে সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, টয়োটার মতো বড় কোম্পানি এখন স্পনসর হিসেবে যুক্ত। ২০২৬ সালের 'বাস প্রো ট্যুর'-এ বিজয়ী প্রতিযোগীকে ১ লাখ ২৫ হাজার ডলার প্রাইজমানি দেওয়া হয়েছে। যারা প্রচলিত খেলাধুলায় আগ্রহ পায় না, তাদের জন্য এই পেশাদার মাছ শিকার এখন আত্মপ্রকাশের এক অনন্য সুযোগ হয়ে দাঁড়িয়েছে।




